32 thoughts on “মতামত

  1. Humayun Kabir

    আসছালামু আলাইকুম, ইমাম আব্দুল হাকীম সাহেবের খুতবা ইন্টারনেটে শুনে শুনে তার খুতবা সরাসরি শুনতে ইচ্ছুক কিন্তু আপনাদের সাইডে বা আব্দুল হাকীম সাহেবের খুতবায় তাহার মসজিদের নাম ও লোকেশন জানা যায়না । দয়া করে কোন ভাই লোকেশন জানালে উপকৃত হবো । হুমায়ুন কবির, মিরপুর , ঢাকা –
    মোবাইল নং- xxxxxxxxxxx

    1. Md. Hafizul Islam

      মিরপুর ১০ নং ওভার ব্রিজের সাথে । শাহ আলি প্লাজার অপরদিকে । রাডডা হাসপাতা
      লের সাথে । আমাকে কল করতে পারেন । ০১৯৮৬৬৯৪৬৪৭ মোঃ হাফিজুল ইসলাম

  2. আবু আয়েশা

    শাইখুল হাদিস, মুফতী জসীম উদ্দিন রাহমানী (দাঃ বাঃ) এর নিকট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

    প্রশ্ন চার

    ইমাম আব্দুল্লাহ আজ্জাম (রঃ) ‘এসো কাফেলাবদ্ধ হই’ বই এ উল্লেখ করেছেনঃ
    إن الشعب الأفغاني أمي تربى على المذهب الحنفي ولم يعايش المذهب الحنفي في أفغانستان مذهب آخر، ولذا فكثير منهم يظن أن كل من يخالف المذهب الحنفي ليس من الإسلام، وعدم وجود مذاهب أخرى في أفغانستان أظهر التعصب للمذهب الحنفي في قلوب الأفغان، فعلى كل من أراد الجهاد مع الشعب الأفغاني أن يحترم المذهب الحنفي.
    إن الشعب الأفغاني شعب وفي عنده مروءة ورجولة وإباء ولا يعرف المراوغة ولا المداهنة، فإذا أحب شخصا بذل لأجله دمه ونفسه، وإذا بغض لا يقوم لبغضه شيء. وترك بعض هيئات الصلاة في بداية الإختلاط بهم، تعطيك فرصة غالية حتى تصل إلى قلوبهم فتوجههم وتربيهم، وتصلح في أمر دينهم ودنياهم، وقد أفتى أحمد بن حنبل ومالك وابن تيمية بمثل هذا] – الحق بالقافلة [

    “যেহেতু আফগানিস্থানে হানাফী মাজহাব ছাড়া অন্য কোন মাজহাব ছিলো না, তাই এখানকার সাধারণ মানুষ হানাফী মাজহাবের খিলাফ কিছু দেখলে সেটাকে দ্বীনের খেলাফ মনে করেন। … তাই যারা আফগানিস্তানে জিহাদ করতে ইচ্ছুক, তারা হানাফী মাজহাবকে সম্মান করে চলতে হবে।

    …… তাই আফগানদের সাথে প্রথম প্রথম মিশতে গেলে একজনের উচিত হবেঃ নামাজে বিশেষ বিশেষ কাজ না করা (অনুবাদক নোটঃ অর্থাৎ যে সব কাজ হানাফী মাজহাব অনুযায়ী নামাজে নেই, যেমনঃ রফে ইয়াদাইন ইত্যাদি), যাতে সে তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে। …এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (রঃ) , ইমাম মালেক (রঃ) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর ফতোয়া রয়েছে। ”।

    দেখা যাচ্ছে, ইমাম আব্দুল্লাহ আজ্জাম (রঃ, আল্লাহ তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন) এখানে জিহাদের স্বার্থে নামাজের কোন কোন সুন্নত যা হানাফী মাজহাবে নেই, তা আরব সালাফী মুজাহিদীনদেরকে না করতে বলছেন, যাতে তারা সাধারণ আফগানদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।

    যাতে হানাফী-আফগান-আনসার আর সালাফী-আরব-মুহাজিরের মাঝে কোন মতবিরোধ সৃষ্টি না হয়। যাতে সাধারণ আনসারদের মনে মুজাহিদদের ব্যাপারে কোন ভুল ধারনার সৃষ্টি না হয়।

    আরো উল্লেখ্য, এর কাছাকাছি ফতোয়া ইমাম আহমাদ (রঃ) , ইমাম মালেক (রঃ) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    তাহলে বুঝা যাচ্ছে, এই ফতোয়া শুধু তাঁর একক ফতোয়া নয়, বরং এই ব্যাপারে সলফে সালেহীনদেরও ফতোয়া রয়েছে।

    (৪-ক) এখন কোন আহলে-হাদিস / সালাফী ভাই যদি বাংলাদেশে অধিকাংশ হানাফী মাজহাবের অনুসারী মুসলমানদের সাথে মিলেমিশে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে জিহাদের স্বার্থে এই ফতোয়ার উপর আমল করে নামাজে রফে ইয়াদাইন ও অন্যান্য সুন্নাহ যা হানাফী মাজহাবে প্রচলিত নয় সেগুলো না করেন, তাহলে আপনি তার ব্যাপারে কি মনে করেন?

    (৪-খ) এছাড়াও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উম্মত ফিতনায় পড়তে পারে, ভুল বুঝতে পারে এই আশংকায় কাবাঘর পুনঃনির্মান করতে যাননি। এখন এই দেশের অধিকাংশ সাধারণ হানাফী মুসলমান ভুল বুঝতে পারেন, তখন তাওহীদের সঠিক কথাই তাদের সামনে তুলে ধরা যাবে না, জিহাদের ব্যাপারে তাদেরকে তাহরিদ করা যাবে না, তাওহীদ ও জিহাদের পথে তাদেরকে শরীক করা কষ্টকর হবে – এই আশংকায় কোন আহলে হাদীস / সালাফী ভাই যদি নামাজে রাফে-ইয়াদাইন ও অন্যান্য সুন্নাহ যা হানাফী মাজহাবে প্রচলিত নয় সেগুলো না করেন তবে এই ভাই এর ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি হবে?

    (৪-গ) অনুরুপভাবে কোন আলেম যদি একই ফতোয়ার কারণে নিজে রফে ইয়াদাইন ইত্যাদিকে উত্তম মনে করলেও এদেশের অধিকাংশ হানাফী মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে জিহাদের স্বার্থে এর উপর আমল না করেন, তাহলে তিনি কি জিহাদের জন্য অধিক কুরবানী করছেন না? নিজের মতামতকে কুরবানী দিচ্ছেন না?

    (৪-ঘ) একই আলেম যদি একই কারণে এই সব এখতেলাফী মাসয়ালায় কথা না বলেন, বরং ফুরুঈ মাসয়ালার ক্ষেত্রে এই এলাকার অধিকাংশ মুসলমান যে পন্থার উপর আছেন সেই পন্থা অনুযায়ী নিজে চলেন (অর্থাৎ হানাফী মাজহাব অনুযায়ী) এবং হানাফী মাজহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেন, তাহলে এই আলেমের ব্যাপারে আপনার ভাষ্য কি? জিহাদের জন্য তিনি কি নিজের মতামতকে কুরবানী দিয়ে অধিক সওয়াবের ভাগীদার হচ্ছেন না?

    (৪-ঙ) ধরুন, অন্য একজন আলেম যিনি জিহাদের পথে আছেন কিন্তু ইমাম আব্দুল্লাহ আজ্জাম (রঃ) এর এই ফতোয়ার উপর আমল না করে, বিভিন্ন ফুরুয়ী মাসয়ালায় নিজ এলাকার অধিকাংশ মানুষের মাজহাবের বিপরীত আমল করেন, সেগুলো প্রচার ও প্রসার করেন। উপরুক্ত আলেম ও এই আলেমের মাঝে আপনার দৃষ্টিতে কে বেশী প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং কে বেশী হিকমতের অনুসারী?

    প্রশ্ন পাঁচ

    এই সব ইখতেলাফী ফুরুয়ী মাসয়ালার বিভিন্ন মতের ব্যাপারে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেছেনঃ
    وَقَاعِدَتُنَا فِي هَذَا الْبَابِ أَصَحُّ الْقَوَاعِدِ أَنَّ جَمِيعَ صِفَاتِ الْعِبَادَاتِ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ إذَا كَانَتْ مَأْثُورَةً أَثَرًا يَصِحُّ التَّمَسُّكُ بِهِ لَمْ يُكْرَهْ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ بَلْ يُشْرَعُ ذَلِكَ كُلُّهُ كَمَا قُلْنَا فِي أَنْوَاعِ صَلَاةِ الْخَوْفِ وَفِي نَوْعَيْ الْأَذَانِ التَّرْجِيعِ وَتَرْكِهِ وَنَوْعَيْ الْإِقَامَةِ شَفْعِهَا وَإِفْرَادِهَا وَكَمَا قُلْنَا فِي أَنْوَاعِ التَّشَهُّدَاتِ وَأَنْوَاعِ الِاسْتِفْتَاحَاتِ وَأَنْوَاعِ الِاسْتِعَاذَاتِ وَأَنْوَاعِ الْقِرَاءَاتِ وَأَنْوَاعِ تَكْبِيرَاتِ الْعِيدِ الزَّوَائِدِ وَأَنْوَاعِ صَلَاةِ الْجِنَازَةِ وَسُجُودِ السَّهْوِ وَالْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ وَالتَّحْمِيدِ بِإِثْبَاتِ الْوَاوِ وَحَذْفِهَا وَغَيْرِ ذَلِكَ لَكِنْ قَدْ يُسْتَحَبُّ بَعْضُ هَذِهِ الْمَأْثُورَاتِ وَيُفَضَّلُ عَلَى بَعْضٍ إذَا قَامَ دَلِيلٌ يُوجِبُ التَّفْضِيلَ وَلَا يُكْرَهُ الْآخَرُ .

    “এ বিষয়ে আমাদের নীতি, আর এটাই বিশুদ্ধতম নীতি, এই যে, ইবাদতের পদ্ধতির বিষয়ে (যেসব ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে তাতে) যে পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য আছার রয়েছে তা মাকরূহ হবে না; বরং তা হবে শরীয়াত সম্মত। সালাতুল খওফের বিভিন্ন পদ্ধতি, আযানের দুই নিয়ম : তারজীযুক্ত বা তারজীবিহীন, ইকামতের দুই নিয়ম : বাক্যগুলো দুইবার করে বলা কিংবা একবার করে, তাশাহহুদ, ছানা, আউযু এর বিভিন্ন পাঠ, কুরআনের বিভিন্ন কিরাআত, এই সবগুলো এই নীতিরই অন্তর্ভূক্ত। এভাবে ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর-সংখ্যা (ছয় তাকবীর বা বারো তাকবীর), জানাযার নামাযের বিভিন্ন নিয়ম, সাহু সিজদার বিভিন্ন নিয়ম, কুনুত পাঠ, রুকুর পরে বা পূর্বে, রাব্বানালাকাল হামদ, ওয়াসহ অথবা ওয়া ছাড়া, এই সবগুলোই শরীয়াতসম্মত। কোনো পদ্ধতি কখনো উত্তম হতে পারে কিন্তু অন্যটি মাকরূহ নয়”। (মাজমূউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৪/২৪২-২৪৩; আল-ফাতাওয়া আল কুবরা ১/১৪০)

    ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) যাদুল মাআদ গ্রন্থে’ ফজরের সালাতে কুনুত পড়া প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

    وهذا من الاختلاف المباح الذي لا يعنف فيه من فعله ولا من تركه وهذا كرفع اليدين في الصلاة وتركه وكالخلاف في أنواع التشهدات وأنواع الأذان والإقامة وأنواع النسك من الإفراد والقران والتمتع
    “এটা ওইসব মতভেদের অন্তর্ভূক্ত যাতে কোনো পক্ষই নিন্দা ও ভর্ৎসনার পাত্র নন। এটা ঠিক তেমনই যেমন সালাতে রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা, তদ্রূপ আত্তাহিয়্যাতুর বিভিন্ন পাঠ, আযান-ইকামাতের বিভিন্ন ধরন, হজ্বের বিভিন্ন প্রকার – ইফরাদ, কিরান, তামাত্তু বিষয়ে মতভেদের মতোই”। (যাদুল মায়াদ, ১/২৫৬)

    দেখা যাচ্ছে, এই দুই সম্মানিত ইমামের (রঃ) মতে আমাদের সমাজে বর্তমানে যে সকল ফুরুয়ী ইখতিলাফী মাসয়ালা নিয়ে প্রচুর সময় ব্যয় করা হচ্ছে, তার বেশীরভাগকেই তাঁরা মুস্তাহাব পর্যায়ের বলছেন। যেমনঃ

    – রাফে ইয়াদাইন করা বা না করা।
    – ইকামাতের কথাগুলো দুইবার বনাম একবার বলা।
    – ঈদের নামাজের ৬ তাকবীর বনাম ১২ তাকবীর।
    – সিজদা সাহুর বিভিন্ন নিয়ম।
    – দুয়া কুনুত রুকুর আগে বনাম রুকুর পরে। ইত্যাদি।

    অর্থাৎ এগুলো করলে কিংবা না করলে নামাজের কোন ক্ষতি হবে না। নামাজ পুরোপুরিই আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এসব বেশীরভাগ মাসয়ালায় এক ইমামের মতে এক পদ্ধতি উত্তম এবং অন্য ইমামের মতে অপর কোন পদ্ধতি উত্তম।

    (৫-ক) এই দুই সম্মানিত ইমামের (রঃ) কথাকে সামনে রেখে, ফিকহের ফুরুয়ী মাসয়ালায় কোন পদ্ধতি উত্তম, সেটা নিয়ে বাহাস-বিতর্ক করাকে, এই ব্যাপারে আলাদা বক্তৃতা দেয়াকে, এই ব্যাপারে খুতবাহ দেয়াকে, এই ব্যাপারে বারংবার কথা বলাকে, এই ব্যাপারে বিভিন্ন আলোচনা করাকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন?

    (৫-খ) পূর্ণ তাওহীদের সঠিক প্রচার-প্রসার, দ্বীন কায়েম, ইসলামী শরীয়াতকে বিজয়ী করা, মজলুম মুসলমানদেরকে সাহায্য করা, অধিকৃত মুসলিম এলাকাসমূহ শত্রু মুক্ত করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজের অগ্রাধিকারের মধ্যে এই রকম আলোচনা-বিতর্ক-বাহাসের স্থান কোথায়? উম্মাহর এই দুরবস্থার মধ্যে এসব মাসয়ালায় উত্তম-অনুত্তম নিয়ে সময় ক্ষেপন করা কি যুক্তিসংগত বলে আপনি মনে করেন?

    (৫-গ) এসব মাসয়ালার পিছনে কতটুকু সময় ব্যয় করা যাবে বলে আপনি মনে করেন?

    প্রশ্ন ছয়

    শাইখ সালিহ আল উসাইমিন (রঃ) ‘আল উসুল মিন ইলমিল উসুল’ বই এ ‘তাকলীদ’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেনঃ
    واصطلاحاً: اتباع من ليس قوله حجة.
    يكون التقليد في موضعين:
    الأول: أن يكون المقلِّد عاميًّا لا يستطيع معرفة الحكم بنفسه ففرضه التقليد؛ لقوله تعالى: ) فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ)(النحل: الآية43)، ويقلد أفضل من يجده علماً وورعاً، فإن تساوى عنده اثنان خير بينهما.
    الثاني: أن يقع للمجتهد حادثة تقتضي الفورية، ولا يتمكن من النظر فيها فيجوز له التقليد حينئذ، واشترط بعضهم لجواز التقليد أن لا تكون المسألة من أصول الدين التي يجب اعتقادها؛ لأن العقائد يجب الجزم فيها، والتقليد إنما يفيد الظن فقط.
    অর্থাৎ, “তাকলীদ হচ্ছে এমন কারো অনুসরণ করা যার কথা হুজ্জত নয়। …
    তাকলীদ দুইটি ক্ষেত্রে করা হয়ঃ
    ১। যখন মুকাল্লিদ হচ্ছেন একজন আ’ম (সাধারণ) ব্যক্তি যার নিজে নিজে শরীয়াতের হুকুম-আহকাম জানার সামর্থ নেই। এই ব্যক্তির উপর তাক্বলীদ ফরজ। … তাই এই ব্যক্তি এমন এক ব্যক্তির তাক্বলীদ করবে যাকে সে ইলম ও তাকওয়ার অধিকারী বলে জানে। …
    ২। মুজতাহিদ, যখন নতুন কোন বিষয়ের সম্মুখীন হন এবং এই ব্যাপারে তার সুযোগ হয়নি ইজতিহাদ করার, এই ক্ষেত্রে তার জন্য অনুমতি আছে তাকলীদ করার। …”

    একই বই এ শাইখ উসাইমিন (রঃ) তাকলীদের প্রকারভেদ উল্লেখ করতে গিয়েঃ সেটাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি বলেনঃ

    “প্রথম ভাগ হচ্ছেঃ সাধারণ তাক্বলিদ যা হচ্ছে দ্বীনের সকল ব্যাপারে যে কোন এক মাজহাবের সকল করণিয় ও বর্জনীয় মেনে চলা।
    আলেমরা এই ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন। পরবর্তী যুগের আলেমদের কেউ কেউ এই ব্যক্তির উপর এটা ওয়াজিব বলেছেন কারণ সে ইজতিহাদ করতে অক্ষম (অনুবাদক নোটঃ এই ইজতিহাদ করতে যে কোন ইমাম কোন মাসয়ালায় উত্তম ফতোয়া দিয়েছেন)। অন্যরা এটা তার জন্য হারাম বলে উল্লেখ করেছেন কারণ এর মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিকে সকল ক্ষেত্রে অনুসরণের জন্য নির্ধারিত করা হচ্ছে”।

    দেখা যাচ্ছেঃ শাইখ উসাইমিন (রঃ) সাধারণ মুসলমানদের জন্য তাকলীদ ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন।

    (৬-ক) শাইখ উসাইমিন (রঃ) এর উপরুক্ত কথার ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি হবে? আপনি উনার সাথে এই ব্যাপারে একমত পোষণ করেন? একমত পোষণ না করলে, দয়া করে বিস্তারিত ভাবে জানাবেন।

    দেখা যাচ্ছে, শাইখ উসাইমিন (রঃ) মাজহাবকে অস্বীকার করেন নি। এর প্রয়োজনীয়তাকে তিনি অস্বীকার করেন নি। বরং যে কোন এক মাজহাব সর্বদা মানার ক্ষেত্রে আলেমদের মতবিরোধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি এই দুই মতের মধ্যে তাঁর মতে যেটা সঠিক, সেই মতের পক্ষে কথা বলেছেন।

    এই মতবিরোধের এক পক্ষে আছেনঃ ইমাম নববী (রঃ) এর মতো আলেম ও ফকীহ। অন্য দিকে আছেনঃ ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর মতো আলেম। ইমাম নববী (রঃ) বলেছেনঃ
    ووجهه انه لو جاز اتباع أي مذهب شاء لا فضى إلى ان يلتقط رخص المذاهب متبعا هواه ويتخير بين التحليل والتحريم والوجوب والجواز وذلك يؤدى إلى انحلال ربقة التكليف بخلاف العصر الاول فانه لم تكن المذاهب الوافية بأحكام الحوادث مهذبة وعرفت: فعلى هذا يلزمه ان يجتهد في اختيار مذهب يقلده على التعيين
    “ব্যক্তি তাকলীদের অপরিহার্যতার কারণ এই যে, মুক্ত তাকলীদের অনুমতি দেয়া হলে প্রবৃত্তি তাড়িত মানুষ সকল মাজহাবের অনুকূল বিষয়গুলোই শুধু বেছে নিবে। ফলে হালাল-হারাম ও বৈধ-অবৈধ নির্ধারণের এখতিয়ার এসে যাবে তার হাতে। প্রথম যুগে অবশ্য ব্যক্তি তাকলীদ সম্ভব ছিলো না। কেননা ফিকাহ বিষয়ক মাজহাবগুলো যেমন সুবিন্নস্ত ও পূর্ণাংগ ছিলো না তেমনি সর্বত্র সহজলভ্যও ছিলো না। কিন্তু এখন তা সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাংগ আকারে সর্বত্র সহজলভ্য। সুতরাং যে কোন একটি মাজহাব বেছে নিয়ে একনিষ্টভাবে তা অনুসরণ করাই এখন অপরিহার্য”। (আল মাজমু শরহুল মুহায্যাব, ১/১৯)

    অপরদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) সর্বদা একই মাজহাব মানা জরুরী এই মতের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ
    وقال: من التزم مذهباً معيناً، ثم فعل خلافه من غير تقليد لعالم آخر أفتاه، ولا استدلال بدليل يقتضي خلاف ذلك، ولا عذر شرعي يقتضي حل ما فعله، فهو متبع لهواه فاعل للمحرم بغير عذر شرعي، وهذا منكر، وأما إذا تبين له ما يوجب رجحان قول على قول إما بالأدلة المفصلة إن كان يعرفها ويفهمها، وإما بأن يرى أحد الرجلين أعلم بتلك المسألة من الآخر، وهو أتقى لله فيما يقوله، فيرجع عن قول إلى قول لمثل هذا، فهذا يجوز بل يجب، وقد نص الإمام أحمد على ذلك. الفتاوي الكبرى (4/625) .
    “যে ব্যক্তি কোন একটি নির্দিষ্ট মাজহাব অনুসরণ করে এবং এরপর অপর কোন আলেমের তাকলীদ না করেই যিনি তাকে আরেকটি ফতোয়া দিয়েছেন কিংবা এমন কোন দলীলের ভিত্তি ছাড়াই যা তার মাজহাবের ফতোয়ার বাইরে তাকে আমল করতে বাধ্য করে কিংবা শরীয়াতের কোন রুখসত ছাড়াই যদি সেই মাজহাবের বিরোধি কোন ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, তাহলে সে ব্যক্তি নিজের নফসের অনুসরণ করছে, এমন হারাম কাজ করছে, যে ব্যাপারে শরীয়াতের কোন ছাড় নেই। এটা অন্যায় ও গুনাহর কাজ।

    কিন্তু যদি তার কাছে বিস্তারিত দলীল-প্রমাণের কারণে কিংবা দুইজনের মধ্যে একজনকে এই মাসয়ালায় অধিক ইলমের অধিকারী মনে হওয়ায় এবং এই ব্যাপারে তিনি যা বলেছেন তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী মনে হওয়ায় তার কাছে এটা পরিস্কার হয়ে যায় যে, এক ইমামের কথার চেয়ে এই ব্যাপারে অন্য এক ইমামের কথা অধিক নির্ভরযোগ্য এবং এই কারণে তিনি একজনের ফতোয়ার বদলে অন্যজনের ফতোয়াকে ছেড়ে দেন, তাহলে সেটা জায়েজ, বরং সেটা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে ইমাম আহমেদের একটি উক্তি রয়েছে”। (ফাতওয়া আল কুবরা, ৪/৬২৫)

    ইমাম নববী (রঃ) এর কথাতো সুস্পষ্ট। তিনি বর্তমান যুগে সবার জন্য যে কোন এক মাজহাব মানার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। ইচ্ছেমতো বিভিন্ন মাজহাবের বিভিন্ন ফতোয়া অনুসরণ উচিত নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

    আর ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর মত থেকে তো এতটুকু নিশ্চিত যে তাঁর মতেঃ
    – যে কোন একটা মাজহাব মানার সুযোগ আছে। এটাকে তিনি হারাম বলে উল্লেখ করেন নি।
    – বরং অন্য কোন ইমামের ফতোয়া কিংবা পর্যাপ্ত দলীল-প্রমাণ ছাড়া নিজ মাজহাবের ফতোয়াকে ছেড়ে দেয়াকে তিনি নফসের খায়েশাত বলে উল্লেখ করেছেন।
    – শুধুমাত্র কোন মাসয়ালায় নিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী হলেঃ নিজ মাজহাবের ফতোয়াকে ত্যাগ করে অপর ইমামের ফতোয়াকে গ্রহণ করাকে তিনি জায়েজ এবং ওয়াজিব বলেছেন।
    কিন্তু আশ্চর্য হতে হয়ঃ আমাদের দেশে আহলে হাদিস কোন কোন আলেম পুরো মাজহাবকেই অস্বীকার করেন। অনেকে বলেনঃ
    – মাজহাব বলতে কিছু নেই।
    – কারো তাকলীদ করা যাবে না।
    – তাকলীদ সর্বাবস্থায় হারাম। ইত্যাদি।

    (৬-খ) কোন কোন আহলে হাদিস আলেম কর্তৃক এ ধরনের কথা বলা কতটুকু যুক্তিসংগত বলে আপনি মনে করেন?

    (৬-গ) ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর ঐ কথার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি যেখানে তিনি অন্য কোন আলেমের তাক্বলীদ ব্যতীত কিংবা অন্য শক্তিশালী কোন দলীল ছাড়াই নিজ মাজহাবের বিপরীত আমল করাকে নফসের খায়েশাত বলে উল্লেখ করেছেন?

    (৬-ঘ) এই ব্যাপারে মুফতী তাকী উসমানী (দাঃ বাঃ) রচিত ‘মাজহাব কি ও কেন?’ বই এ ‘তাকলীদের স্তর তারতম্য’ অধ্যায়ে পৃষ্টা ৭৭ থেকে পৃষ্টা ১০২ তে যে কথাগুলো উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

    উক্ত বই এর লিংকঃ http://www.banglakitab.com/BanglaBooks/SchoolOfThoughts-WhatAndWhy-Part1.pdf

    (৬-ঙ) আপনি যদি উপরুক্ত বই এর উল্লেখিত কথাসমূহের সাথে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন, তাহলে সঠিক কোনটা হবে? দয়া করে বিভিন্ন ইমামগণের উক্তি সহ বিস্তারিত জানাবেন।

    উপসংহার

    সম্মানিত শাইখ, আমাদের প্রশ্ন একটু দীর্ঘ হয়েছে এবং বিস্তারিত হয়েছে। যেহেতু আমরা দূর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছি, তাই বিস্তারিত লিখে পাঠালাম, যাতে আপনি আমাদের অবস্থা ও প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হন। দীর্ঘ প্রশ্নমালা লিখতে গিয়ে কোন ভুল-ত্রুটি কিংবা বেয়াদবী হয়ে থাকলে দয়া করে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
    আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন।

    আমাদের জন্য খাস করে দুয়া করবেন, যাতে আল্লাহ আমাদেরকে তাওহীদ ও জিহাদের পথে আমৃত্যু অবিচল রাখেন।
    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে আজীবন দ্বীন ইসলাম ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর খেদমত আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দান করুন।
    আল্লাহ যেন আপনাকে দুনিয়াব্যাপী মুজাহিদীনদের শাইখদের অনুসৃত মানহাজ ও কলা-কৌশল অনুসরণ করে জিহাদের পথে কাজ করার তৌফিক দান করেন।

    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে সকল জিহাদ-বিরোধী, দুনিয়া-পূজারীদের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

    আল্লাহ আপনাকে জিহাদ বিরোধী সকল ভীরু ও কাপুরুষদের বাতিল যুক্তির ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।

    আল্লাহ আপনাকে জিহাদী মনোভাব সম্পন্ন কতিপয় অর্বাচীন যুবকদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন যারা নিজের নফসের খায়েশাতকে পূরণ করার জন্য আপনাকে বারংবার ফুরুয়ী মাসয়ালার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে থাকে যার ফলশ্রুতিতে আপনাকে ফুরুয়ী মাসয়ালার ব্যাপারে প্রচুর কথা বলতে হয়।

    আল্লাহ আপনাকে জিহাদ বিরোধী ঐসকল দুষ্টু প্রকৃতির মানুষের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন যারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর প্রতি ভালোবাসা দেখায় কিন্তু বাস্তবে শুধু ফুরুয়ী-ইখতেলাফী বিষয়সমূহ নিয়ে বাড়াবাড়ি ও কথাবার্তা চালিয়ে যেতে থাকে যাতে আপনার আশেপাশের সবাই এসব মাসয়ালা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং এদেশের অধিকাংশ মুসলমান থেকে কিছুটা আলাদা ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    আল্লাহ আপনাকে ঐ সকল আলেমদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন যারা রাস্ট্রীয় পর্যায়ে শিরক নিয়ে কিংবা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ নিয়ে আলোচনা করতে ভয় পায় কিন্তু যাদের একমাত্র ‘ব্যবসা’ হলো এসব ফুরুয়ী ইখতেলাফী বিষয়ে বাহাস-বিতর্ক এবং আলোচনা-সমালোচনা। এর মাধ্যমে তারা সবসময় তাদের আশেপাশে জনসমাগম বজায় রাখে।

    আল্লাহ আপনাকে তাগুত হাসিনা-খালেদা-এরশাদ গংদের নেতৃত্বাধীন মুরতাদ সরকারসমূহের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ যেন আপনাকে এইসব নাস্তিক-কাফির-মুরতাদ-মুশরিকদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় কদমে দাঁড়িয়ে থাকার তৌফিক দান করেন।

    আল্লাহ আপনাকে ঐ সকল ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন যা তাগুত-মুরতাদ সরকারগুলো সকল মুজাহিদীনদের ব্যাপারে করে থাকে, যাতে তাদেরকে নূন্যতম প্রস্তুতি ছাড়াই জিহাদ-ক্বিতালে নামিয়ে দেয়া যায়, যাতে এই সুযোগে তাগুত-মুরতাদরা মুজাহিদীনদেরকে সমূলে ধ্বংশ করতে পারে।

    আল্লাহ আপনাকে আমেরিকা-বৃটেন-ভারতসহ অন্যান্য সকল যুদ্ধরত সন্ত্রাসী-কাফির-ক্রুসেডার দেশসমূহের বিভিন্ন বাহিনীর সকল ফিতনাহ ও ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ রাখুন।

    প্রিয় শাইখ,

    পরিশেষে অনুরোধ করবোঃ আমাদের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একটি খুতবাহ / আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে দেয়ার জন্য। এতে আমরা ও আপনার অগণিত শ্রোতা, শুভাকাংখীরা উপকৃত হতে পারবো ইনশাআল্লাহ। যদি আপনি দয়া করে প্রতিটি প্রশ্ন উল্লেখ করে সেগুলোর উত্তর দেন, তাহলে আমাদের জন্য প্রত্যকেটি প্রশ্নের উত্তরে আপনার বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে বুঝে নিতে সুবিধা হবে ইনশাআল্লাহ।

    আল্লাহ হাফেজ।
    ————————–

    নোটঃ কোন সহৃদয় পাঠক যদি এই প্রশ্নের একটি প্রিন্ট কপি সম্মানিত শাইখের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে সেটা অনেকের জন্য উপকারী হবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে অনেক প্রতিদান পাবেন ইনশাআল্লাহ।

    doc: http://www.sendspace.com/file/ngj28d
    pdf: http://www.sendspace.com/file/101i5u

  3. আবু আয়েশা

    শাইখুল হাদিস, মুফতী জসীম উদ্দিন রাহমানী (দাঃ বাঃ) এর নিকট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

    সম্মানিত শাইখ,

    আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

    আমরা আপনার বিভিন্ন খুতবাহ ও আলোচনা যা বিভিন্ন ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়, সেগুলি শুনি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন। ইসলাম ও জিহাদের পথে আল্লাহ আপনাকে অটল রাখুন। জিহাদ বিরোধী-মুনাফিকদের সকল বিরোধিতার মুখে আপনাকে আল্লাহ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর পথে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার তৌফিক দিন।

    আমরা আপনার খুতবাহ শুনে উজ্জীবিত হই। জিহাদের পথে তাহরীদ হই। আর আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারত সহ সকল প্রকার যুদ্ধরত (হারবী) কাফির ও তাদের এদেশীয় এজেন্ট আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত মুরতাদ সরকারগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ ও ক্বিতাল করার জন্য, সে জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য উৎসাহিত হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই জমীনে এই সকল মুরতাদ গোষ্টীকে হটিয়ে ইসলামী শরীয়াত পরিপোর্ণভাবে কায়েম করার তৌফিক দান করুন। আর এই জিহাদে হানাফী-সালাফী-দেওবন্দী সকল মাসলাকের মুসলমানদেরকে একত্রিত থেকে কাজ করার তৌফিক দান করুন।
    প্রিয় শায়েখ, আমাদের সমাজে তাক্বলীদ, মাজহাব ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা ও ইখতিলাফ থাকায় এসব ব্যাপারে আমরা আপনার সুস্পষ্ট মতামত জানতে আগ্রহী। যদিও এই ব্যাপারে আপনার কিছু আলোচনা আমরা শুনেছি, তবুও এই ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে আপনার মতামত জেনে নেয়া আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে আশা করে আমরা এই প্রশ্নগুলো আপনাকে পাঠাচ্ছি।

    আশা করি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে সংশ্লিষ্ট ভাইরা কিংবা যেসব ভাই আমাদের এই প্রশ্নগুলো পড়বেন তাদের কেউ আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব পাবার আশায়, আপনার কাছে আমাদের এই প্রশ্নগুলো পৌঁছিয়ে দিবেন। যদিও আমরা দেখেছি কিছুদিন আগে ‘বেয়াদব শ্রেণির’ কেউ একজন আপনাকে আদব ও ইনসাফবিহীনভাবে প্রশ্ন করেছিলো, আমরা আশা করি অন্য কারো ভুল আচরণের জন্য আমরা আমাদের প্রশ্নেসমূহের উত্তর থেকে বঞ্চিত হবো না।

    প্রথম প্রশ্নঃ

    ধরে নিন, আমরা হানাফী মাজহাবের অনুসারী। আমরা বর্তমানে বিতর নামাজ সেইভাবে আদায় করি যেভাবে হানাফী মাজহাবে উল্লেখ আছে। এখন যদি আমরা হটাৎ একদিন নীচের এই দুইটা হাদিস কোন সাধারণ শিক্ষিত মুসলমান ভাই এর মুখ থেকে শুনিঃ

    রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের প্রথম দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।’ আরেকটি বর্ণনায় আছে: ‘তিনি তিন রাকাত বিতর পড়তেন আর শুধু শেষ রাকাতে বসতেন।” [আন-নাসাঈ ৩:২৩৪, আল বায়হাকী ৩:৩১]

    ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণনা যে তিনি সালামের মাধ্যমে প্রথম দুই রাকাতকে তৃতীয়টির থেকে আলাদা করতেন, এবং তিনি বলেন, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবে পড়তেন। [ইবনে হিব্বান ২৪৩৫]

    এই দুইটা হাদিস শুনিয়ে আমাদের ঐ ভাই আমাদেরকে বললেন, বিতরের নামাজ হানাফী নিয়মে পড়লে হবে না। বরং হয় তিন রাকাত পড়লে হয় মাঝখানে না বসে সরাসরি ৩য় রাকাতে উঠে দাঁড়াতে হবে। অথবা ২ রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে আলাদা এক রাকাত পড়তে হবে।

    এখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের মানে কি এটাই যেঃ

    (১-ক) আমরা আর কোন যাচাই-বাছাই না করে, এই সাধারণ শিক্ষিত ভাই এর কথায় আমাদের বিতরের নামাজ পরিবর্তন করে ফেলবো?

    ধরুন, আমরা তো আরবী জানি না, এই হাদিসের অনুবাদ এই ভাইরা সঠিকভাবে পেয়েছেন কিনা, সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না।

    (১-খ) যদি সাধারণ শিক্ষিত ভাই না হয়ে একই হাদিস আমরা জানতে পারি কোন মসজিদের ইমাম, কিংবা কোন মাদ্রাসার ছাত্র এর কাছে, যিনি আমাদেরকে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, যে এর অনুবাদ ঠিকই আছে, তাহলে কি আমরা সাথে সাথে তার কথায় আমাদের বিতর নামাজ পরিবর্তন করে ফেলবো?

    আমরা তো এখনো নিশ্চিত না, এটা জাল নাকি জয়ীফ নাকি সহীহ?

    (১-গ) আমরা যদি একই হাদিস পাই, কোন মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে যিনি আমাদেরকে এই ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে, এই হাদিস সহীহ। তাহলেই কি সাথে সাথে আমরা আমাদের বিতরের নামাজ পরিবর্তন করে ফেলবো?

    অথচ তিনি এখনো আমাদেরকে জানাতে পারছেন না যেঃ

    – বিতরের নামাজের ব্যাপারে অন্য আর কি কি হাদিস আছে, সেগুলির সাথে এই হাদিসের সম্পর্ক কি?
    – অন্য কোন হাদিসের মাধ্যমে এই হাদিস কি মানসুখ হয়ে গেছে কিনা?
    – অন্য কোন হাদিস এই হাদিসের অর্থকে খাস করে দিচ্ছে কিনা?
    – এই হাদিসে ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ কি জাহির (সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট) নাকি এর শব্দগুলো থেকে বিভিন্ন অর্থ নেয়ার সুযোগ আছে?
    – এই হাদিস যদি অন্যান্য সনদে বর্ণিত হয়ে থাকে – তাহলে এই সনদ থেকে শক্তিশালী অন্য কোন সনদের হাদিসের মতনের সাথে এর তারতম্য আছে কিনা?
    – এই হাদিসের রাবীরা নিজেরা এই হাদিসের উপর আমল করছেন কিনা?
    – এই হাদিস ফেলী হলে একই ব্যাপারে ক্বাওলী কোন হাদিসের সাথে এর বিরোধ আছে কিনা?
    – এই হাদিসে ব্যবহৃত শব্দের অর্থ কোন স্তর থেকে নেয়া উচিত হবেঃ ইবারাহ, দ্বলালাহ, ইকতিদা, নাকি ইশারাহ স্তর থেকে?
    – এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীনগণ (রাদিয়াল্লাহুম আলাইহিম আজমাঈন) কিভাবে আমল করেছেন?
    – সাহাবাগণের (রঃ) আমলে এই হাদিসের পক্ষে-বিপক্ষে আমল পাওয়া যায় কিনা?
    – এই হাদিসের ব্যাখ্যায় তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনগণ কি বলেছেন? তাঁদের মাঝে এর ব্যাখ্যায় দ্বিমত ছিলো কিনা?
    – এই হাদিসের সাথে অন্য হাদিসের বিরোধ থাকলে এই হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় হবে কিনা? নাকি একটির উপর আরেকটি তারজীহ (প্রাধান্য) পাবে, নাকি দুইটার উপরই আমল স্থগিত থাকবে?
    – আবার সমন্বয় হলে কিভাবে হবে? এই হাদিসগুলোর ব্যাপারে কোন আলেমের সমন্বয় উত্তম?
    – তারজীহ দেয়া হলে কিসের ভিত্তিতে তারজীহ দেয়া হবে? কোন মুজতাহিদের তারজীহ দেয়া এই ব্যাপারে উত্তম হয়েছে?
    – সার্বিকভাবে এই হাদিসের অর্থ ও ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমুক ইমামের ইজতিহাদ সঠিক নাকি অন্য কোন মুজতাহিদ ইমামের ইজতিহাদ সঠিক?
    – যদি দুইজন মুজতাহিদ ইমামের ইজতিহাদে, এই হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে পার্থক্য হয়ে থাকে, তাহলে দুই মুজতাহিদ ইমামের মাঝে এই হাদিস থেকে মাসয়ালা ইস্তেমবাতের ক্ষেত্রে কার ফিকহের উসুল (দলীল থেকে হুকুম বের করার মূলনীতি) অধিক শক্তিশালী ও অধিক উপযোগী ছিলো?
    – এই দুই ইমামের ইজতিহাদগত মতপার্থক্যের ব্যাপারে হাদিসের ও ফিকহের অন্যান্য ইমামরা কি কি বক্তব্য দিয়েছেন, যার মাধ্যমে বুঝা যায়, এই মাসয়ালায় কোন ইমামের ইজতিহাদ সঠিক?
    – যদি পরবর্তী ইমামরাও এই মাসয়ালায় দ্বিধা-বিভক্ত থাকেন, তাহলে কোন পক্ষের উসুল এই ক্ষেত্রে শক্তিশালী ছিলো? আর আমরা কোন কোন ভিত্তির উপর এই দুই উসুলের মাঝে যে কোন একটিকে শক্তিশালী মনে করে সেই পক্ষের মতকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করছি? ইত্যাদি

    উপরুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর না শুনে / না জেনে উপরুক্ত হাদিস দুটো শুনা মাত্রই কি সাথে সাথে আমাদের জন্য আমল পরিবর্তন করে ফেলা উচিত হবে?

    আমাদের দেশের এই রকম কতজন আলেম আছেন বলে আপনি মনে করেনঃ যারা যে কোন ব্যাপারে একটি হাদিস শুনলেই এই হাদিসের ব্যাপারে উপরুক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর সঠিকভাবে দিতে সক্ষম হবেন?

    যারা পারবেন, তারাও কি তাৎক্ষনিক উত্তর দিতে পারবেন? সেটা না পারলে, গড়ে আমাদের দেশের আলেমদের জন্য এই সকল ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তর দিতে কতক্ষণ / কতদিন সময় লাগবে?

    (১-ঘ) ধরুনঃ আমরা ঐ মাদ্রাসার শিক্ষকের কথায় আমাদের নামাজ পরিবর্তন করে ফেললাম। পরে আবার আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আরেকটি হাদিস আমাদেরকে শুনালেন যে,
    في كل ركعتين التحية
    “প্রতি দুই রাকাতে রয়েছে তাশাহুদ”। (সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, বাইহাকী, আবু ইয়ালা, আবু আওনাহ)
    এখন আবার আমরা আরেক চিন্তায় পড়লাম। এই হাদিসে দেখা যাচ্ছেঃ আমাদেরকে আবার বিতরের ২ রাকাতের পর বসতে হবে। আবার আমরা বিভিন্ন আলেমের কাছে ছুটাছুটি করতে থাকলাম।

    এখন আমরা কি আবার আমাদের বিতরের নামাজ হানাফী মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পড়া শুরু করবো?

    আমরা তো সব সময় এমন আলেমকে আমাদের পাশে পাইনা, যিনি সহজে আমাদেরকে এসব বিষয়ের উত্তর দিতে পারবেন? বিভিন্ন মাজহাবের সব-কিতাব, সকল হাদিসের কিতাব, সেগুলোর শরাহতো দেশের অধিকাংশ জেলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেসব কিতাবের উপর ভিত্তি করে এসব মাসয়ালায় বিভিন্ন মাজহাবের সিদ্ধান্ত বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে আলেমরা একটা স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন, এই মাসয়ালায় কোন ইমামের ইজতিহাদ সত্যের অধিক নিকটবর্তী?

    (১-ঙ) উপরে উল্লেখিত যে কোন স্তরের ব্যক্তি (সাধারণ শিক্ষিত / মসজিদের ইমাম / মাদ্রাসার শিক্ষক) যিনি নিজে একজন মুজতাহিদ নন, তিনি যদি শুধুমাত্র কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করে, একই ব্যাপারে অপর কোন মুজতাহিদ ইমামের রায় / মতামত উল্লেখ না করে, আমাদেরকে বলেন যে, আমরা যেন আমাদের নামাজের নিয়ম পরিবর্তন করি, তাহলে কি আমরা ঐ ব্যক্তির কথায় আমাদের নামাজ পরিবর্তন করে ফেলবো?

    অথচ ঐ ব্যক্তি নিজে ইজতিহাদ করার কিংবা মাসয়ালা ইস্তেম্বাত করার ক্ষমতা রাখেন না এবং তিনি এই মাসয়ালায় ইমামগণের মতামতসমূহ তুলনামূলক পর্যালোচনাও করেননি এবং তুলনামূলক পর্যালোচনা করার জন্য যে ইলমী যোগ্যতা থাকা দরকার, যে সব কিতাব দরকার তা উনার আছে কিনা, সেটাও আমরা জানি না।

    এছাড়াও বিভিন্ন মুজতাহিদ ইমামগণের রায়ের এই তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষনের ব্যাপারে আমরা যুগ যুগ ধরে স্বনামধন্য ওলামায়ে-কেরামগণের (রঃ) মতামতকে প্রাধান্য দিবো, নাকি উপরুক্ত ঐ ব্যক্তির (সাধারণ শিক্ষিত / মসজিদের ইমাম / মাদ্রাসার শিক্ষক) মতামতকে প্রাধান্য দিবো?

    এখন বিভিন্ন মাজহাবের ফতোয়ার গভীরে গিয়ে সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক যাচাই-বাছাই করে সেগুলোর মধ্যে কোন মাসয়ালা সত্যের অধিক নিকটবর্তী এটা বের করতে সক্ষম, এ রকম যোগ্যতাসম্পন্ন আলেম বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যে শতকরা কতজন বলে আপনি মনে করেন?

    (১-চ) বাংলাদেশে কতজন আলেম এই রকম আছেন বলে আপনি মনে করেন, যিনি কোন মুজতাহিদ ইমামের ফতোয়ার সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে আল-কোরআন, সুন্নাহ ও ইমামগণের ইজমার ভিত্তিতে নিজে নিজে ফতোয়া দিতে পারবেন?

    অর্থাৎ, বাংলাদেশে এখন কতজন আলেম নিজেই একজন মুজতাহিদ?

    আর আমরা মুজতাহিদ আলেমকে খুঁজে না পেলে তো যে আলেমের কাছেই যাই, তিনি অন্য কোন না কোন মুজতাহিদ ইমামের ফতোয়া আমাদেরকে জানাবেন, তারপর আমরা তাঁর কথায় সেই ফতোয়ার উপর আমল করতে হবে।

    (১-ছ) কোন আলেমের কাছ থেকে ফুরুয়ী মাসয়ালার কোন ফতোয়া জানার সময় যদি কেউ (যে আরবী ভাষা জানে না, হাদিসে ও ফিকহ শাস্ত্র ইত্যাদি কিছুই জানে না) দলীল-প্রমাণ ছাড়াই সরাসরি ফতোয়া / মাসয়ালা জেনে নেয় এবং সেই অনুযায়ী আমল করে, তাহলে সেটা কি তার জন্য হারাম হবে?

    যদিও ঐ আলেম তাদেরকে ২/৩ টি আয়াত কিংবা হাদিস শুনিয়ে দেনও, কিন্তু শুধু এই ২/৩ টি আয়াত কিংবা হাদিস দিয়েই তো আর সেই ফতোয়াটা আসেনি। সে তো ঐ আলেমের উল্লেখিত ফিকহের উসুল / হাদিসের বিরোধিতার ক্ষেত্রে গৃহীত মূলনীতি ইত্যাদি জানে না। এগুলো তার কাছে ‘চাইনিজ ভাষার’ মতো অপরিচিত।

    এক্ষেত্রে কি সে শুধু ঐ আলেমের উপর আস্থা রেখে তাঁর জানানো ফতোয়ার উপর আমল করতে পারবে না? যদি পারে, তবে এটা কি তাক্বলীদ হবে না?

    যদি দলীল ছাড়া মাসয়ালা জানার সুযোগ না থাকে, এমতাবস্থায় এই ব্যক্তি কিভাবে যে কোন আলেমের কাছ থেকে মাসয়ালা জানবেন? সে তো আরবী ভাষা, তাফসীর, হাদিস, ফিকহের উসুল ইত্যাদি কিছুই বুঝে না?
    নাকি দ্বীন ইসলাম সাধারণ মুসলমানদের জন্য দলীল না বুঝলেও দলীলসহ মাসয়ালা জানতে বাধ্য করেছে?

    (১-জ) এখন যদি এইভাবে কোন আলেমের কাছ থেকে দলীল-প্রমাণ ছাড়াই ফতোয়া জানা উপরুক্ত ব্যক্তির জন্য অনুমোদিত হয়, তাহলে আর কোন কোন ব্যক্তির জন্য এটা অনুমোদিত, আর কোন কোন ব্যক্তির জন্য এটা অনুমোদিত নয়, দয়া করে সলফে সালেহীন / মুজতাহিদ ইমামগণের মতামতসহ জানাবেন?

    (১-ঝ) আর যদি আমরা দলীল-প্রমাণ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোন ব্যক্তির কথায়, তার মুখ থেকে কিছু হাদিস শুনেই আমাদের আমল পরিবর্তন করি, তাহলে কি আমরা মুজতাহিদ ইমামের তাকলীদের পরিবর্তে, এক সাধারণ ব্যক্তির তাকলীদ করা শুরু করলাম না? কারণ এই মাসয়ালায় আমরা তার উপর নির্ভর করছি। এমন নয় যে সে সকল দলীল-প্রমাণ ইত্যাদি বুঝিয়েছে এবং এরপর আমরা আমাদের আমল পরিবর্তন করেছি।

    প্রশ্ন দুই

    রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী’র আল মাজমাউল ফিকহী (ফিকহী বোর্ড) ফুরুয়ী বিষয়ে ইখতিলাফের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেনঃ
    আকীদা ও বিশ্বাসগত বিষয়ে মতভেদ হচ্ছে يجب أن لا يكون অর্থাৎ তা না হওয়া অপরিহার্য। আর আহকাম ও বিধানের বিষয়ে যে মতভেদ তা لا يمكن أن لا يكون অর্থাৎ তা না হওয়া অসম্ভব।

    এতে শায়খ ইবনে বায (রঃ) ও শায়খ আবদুল্লাহ উমর নাসীফ এর মতো সালাফী আলেমদের স্বাক্ষরও আছে।

    (২-ক) ফুরুয়ী মাসয়ালায় এই ইখতিলাফ যা ‘না হওয়া অসম্ভব’ (لا يمكن أن لا يكون ) এগুলো কি আজকের যুগে শুরু হয়েছে?

    (২-খ) এগুলো কি এক-দুই দিনে, দুই-এক বছরে বাহাছ-বিতর্ক করে সমাধান করা, ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব?

    (২-গ) তাহলে মুসলিম উম্মাহ কি এখন এসব ফুরুয়ী ইখতিলাফের সমাধান বের করতে আর কোন মাসয়ালায় কোন ইমামের ইজতিহাদ উত্তম তা বের করতে গিয়ে সকল সময় ব্যয় করতে থাকবে?

    নাকি মূল ও বড় বড় সমস্যার সমাধানে সময় দিবে? সকল তাগুতদেরকে হটানোর জন্য সময় দিবে?

    সকল মুরতাদ সরকারকে হটিয়ে ইসলামী শরীয়াত প্রতিষ্টা করার জন্য সময় দিবে?

    জিহাদ-ক্বিতাল – যা মুসলিম উম্মাহকে পুনরায় গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে’ নিয়ে যাওয়ার পথ, যা আল্লাহর প্রদত্ত লাঞ্চনা থেকে বাঁচার পথ, সেটাতে সময় দিবে?

    ধরুন, বিতরের নামাজের ব্যাপারে ৫/৬ মাস বিভিন্ন মাদ্রাসায় হাঁটাহাটি করে, বিভিন্ন আলেমদের মতামত জেনে, তাদের সকল যুক্তি-দলীল জেনে, নিজেরা আবার সেগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা আমাদের বুঝ অনুযায়ী একটা স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সামর্থ হলাম। এরপর আবার হটাৎ সামনে আসলো রফে-ইয়াদাইনের হাদিস, এরপর আত্তাহিয়াতুতে আঙ্গুল নাড়ানো, এরপর আসলো ঈদের নামাজে ১২ তাকবীরের হাদিস, এরপর আসলো তারাবীর নামাজের ৮ রাকাতের হাদিস, এরপর আসলো কোন দিন ঈদ – স্থানীয় চাঁদ নাকি বিশ্বব্যাপী চাঁদ এই আলোচনা ইত্যাদি।

    (২-ঘ) এখন এই রকম প্রত্যেকটা মাসয়ালায় যদি আমরা ৩/৪ মাস করে হাঁটাহাঁটি করে সব পক্ষের মতামত, যুক্তি-তর্ক, দলীল-পত্র সাধ্যমতো যাচাই–বাছাই করে চলতে থাকি, আমাদের সারাটা জীবনই তো তাহলে এই পথে কেটে যাবে।

    – তাহলে আমরা জিহাদ করবো কখন?
    – তাহলে আমরা কিতাল করবো কখন?
    – তাহলে আমরা গাযওয়ায়ে হিন্দে যাবো কখন?
    – তাহলে আমরা আরাকানের মুসলমানদের জন্য জিহাদে যাবো কখন?

    (২-ঙ) এইভাবে ফিকহের প্রত্যেকটা মাসয়ালায় সঠিক মত বের করার চেষ্টায় ব্রতী হওয়া কি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী?

    (২-চ) বর্তমানে উম্মতের এই দুর্যোগের সময়ে এসব ফুরুয়ী মাসয়ালার পিছনে কতটুকু সময় দেয়া যুক্তি-বুদ্ধি-ইনসাফ ও হিকমতের দাবী বলে আপনি মনে করেন?

    (২-ছ) আর কতটুকু সময় এখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর প্রস্তুতির জন্য দেয়া উচিত?

    প্রশ্ন তিন

    মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রঃ) “জাওয়াহিরুল ফিকহ” গ্রন্থের “ওয়াহদাতে উম্মত” রিসালায় বলেছেনঃ

    “রাজনীতি ও অর্থনীতির অঙ্গনে এবং পদ ও পদবীর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে যে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন তার প্রতিকার তো আমাদের সাধ্যে নেই। কিন্তু দ্বীনী ও ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত দলগুলোর নীতি ও কর্মপন্থার যে বিরোধ তা বোধ হয় দূর করা সম্ভব। কারণ সবার লক্ষ্য অভিন্ন। আর লক্ষ্য অর্জনে সফলতার জন্য তা অপরিহার্য। যদি আমরা ইসলামের বুনিয়াদী উসূল ও মৌলনীতি সংরক্ষণের এবং নাস্তিকতা ও ধর্মহীনতার স্রোত মোকাবেলাকে সত্যিকার অর্থে মূল লক্ষ্য মনে করি তাহলে এটিই সেই ঐক্যের বিন্দু, যেখানে এসে মুসলমানদের সকল ফের্কা ও সব দল একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারে আর তখনই এই স্রোতের বিপরীতে কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।

    কিন্তু বাস্তব অবস্থার দিকে তাকালে বলতে হয়, এই মূল লক্ষ্যটিই আমাদের দৃষ্টি থেকে গায়েব হয়ে গেছে। এ কারণে আমাদের সমস্ত সামর্থ্য এবং জ্ঞান ও গবেষণার সমুদয় শক্তি নিজেদের ইখতিলাফি মাসআলায় ব্যয় হচ্ছে। ওগুলোই আমাদের ওয়াজ, জলসা, পত্রিকা ও বই-পুস্তকের আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এমন কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ এ কথা মনে করতে বাধ্য হচ্ছে যে, ইসলাম ধর্ম কেবল এই দুই-চার জিনিসেরই নাম। আরো আক্ষেপের বিষয় এই যে, ইখতিলাফী মাসআলাসমূহে যেই দিকটি কেউ অবলম্বন করেছে তার বিপরীতটিকে গোমরাহী এবং ইসলামের শত্রুতা আখ্যা দিচ্ছে। ফলে আমাদের যে শক্তি কুফুরি, নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা এবং সমাজে বাড়তে থাকা বেহায়াপনার মোকাবেলায় ব্যয় হতে পারত তা এখন পরস্পর কলহ-বিবাদে ব্যয় হচ্ছে। ইসলাম ও ঈমান আমাদেরকে যে ময়দানে লড়াই ও আত্মত্যাগের আহবান জানায় সেই ময়দান শত্রুর আক্রমণের জন্য খালি পড়ে আছে। আমাদের সমাজ অপরাধ ও অন্যায়ে ভরপুর, আমল-আখলাক বরবাদ, চুক্তি ও লেনদেনে ধোঁকাবাজি, সুদ, জুয়া, মদ, শূকর, অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা ও অপরাধপ্রবণতা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিশে গেছে।

    প্রশ্ন হল, আম্বিয়া কেরামের উত্তরসূরী এবং দেশ ও ধর্মের প্রহরীদের নিজেদের মধ্যেকার মতপার্থক্যের বেলায় যতটা সংক্ষুব্ধ হতে দেখা যায় তার অর্ধেকও কেন সেসব খোদাদ্রোহীদের বেলায় দেখা যায় না? এবং পরস্পর চিন্তাগত মতপার্থক্যের বেলায় যেমন ঈমানী জোশ প্রকাশ পায় তা ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কেন প্রকাশ পায় না? আমাদের বাকশক্তি এবং লেখনীশক্তি যেমন শৌর্যবীর্যের সাথে নিজেদের ইখতিলাফি মাসআলায় লড়াই করে তার সামান্যতম অংশও কেন ঈমানের মৌলিক বিষয়ের উপর আসা হুমকির মোকাবেলায় ব্যয় হয় না? মুসলমানদেরকে মুরতাদ বানানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা সকলে কেন সিসাঢালা প্রাচীরের মতো রুখে দাঁড়াই না? সর্বোপরি আমরা এ বিষয়ে কেন চিন্তা করি না যে, নবী প্রেরণ ও কুরআন নাযিলের ঐ মহান উদ্দেশ্য, যা পৃথিবীতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে এবং যা পরকে আপন বানিয়ে নিয়েছে, যা আদম সন্তানদেরকে পশুত্ব থেকে মুক্ত করে মানবতার মর্যাদা দিয়েছে এবং যা সমগ্র দুনিয়াকে ইসলামের আশ্রয়কেন্দ্র বানিয়েছে তা কি শুধু এই সব বিষয়ই ছিল, যার ভিতর আমরা লিপ্ত হয়ে আছি। এবং অন্যদেরকে হেদায়েতের পথে আনার তরীকা ও পয়গম্বরসুলভ দাওয়াত দেওয়ার কি এটাই ছিল ভাষা, যা আজ আমরা অবলম্বন করেছি?

    এখনো কি সময় হয়নি যে, ঈমানদারদের অন্তরগুলো আল্লাহর স্মরণ ও তার নাযিলকৃত সত্যের সামনে অবনত হবে …
    শেষ পর্যন্ত তাহলে ঐ সময় কবে আসবে যখন আমরা শাখাগত বিষয়-আশয় থেকে কিছুটা অগ্রসর হয়ে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার সংরক্ষণ এবং অবক্ষয়প্রাপ্ত সমাজের সংশোধনকে নিজেদের আসল কর্তব্য মনে করব। দেশের মধ্যে খৃস্টবাদ ও কমিউনিজমের সর্বগ্রাসী সয়লাবের খবর নিব। কাদিয়ানীদের হাদীস অস্বীকার ও ধর্ম বিকৃতির জন্য কায়েম করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পয়গম্বরসুলভ দাওয়াত ও এসলাহের মাধ্যমে মোকাবেলা করব।

    আর যদি আমরা এগুলো না করি এবং হাশরের ময়দানে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ প্রশ্ন করেন যে, আমার দ্বীন ও শরীয়তের উপর এই হামলা হচ্ছিল, ইসলামের নামে কুফরি বিস্তার লাভ করছিল, আমার উম্মতকে আমার দুশমনের উম্মত বানানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছিল, কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য বিকৃতি ঘটছিল, আল্লাহ ও রাসূলের প্রকাশ্য নাফরমানি করা হচ্ছিল তখন তোমরা ইলমের দাবীদারেরা কোথায় ছিলে? তোমরা এর মোকাবেলায় কতটা মেহনত এবং ত্যাগ স্বীকার করেছ? কতজন বিপথগামী ব্যক্তিকে পথে এনেছ? তো আমাদের ভেবে দেখা উচিত সেদিন আমাদের উত্তর কী হবে?”

    (৩-ক) মুফতী শফি (রঃ) এর উপরুক্ত কথাগুলোর ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি? আপনি কি তাঁর উপরুক্ত কথাগুলোর সাথে একমত পোষণ করেন?

    (৩-খ) এসব ফুরুয়ী মাসয়ালায় ইখতেলাফের কারণে হানাফী-আহলে হাদিস বিরোধ, রেষা-রেষিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

    (৩-গ) এসব মাসয়ালায় মতবিরোধের কারণে একে অন্যের পিছনে নামাজ না পড়াকে আপনি কিভাবে দেখেন?

    (৩-ঘ) এসব মাসয়ালায় মতবিরোধের কারণে হানাফী, আহলে হাদিস ও বিভিন্ন মাসলাকের অনুসারীদের একসাথে জিহাদ না করাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

    (৩-ঙ) এসব মাসয়ালায় মতবিরোধের কারণে কাফির-মুশরিক-মুরতাদ তথা মূল শত্রুদেরকে ভুলে গিয়ে, মূল শত্রুদের বিরুদ্ধে সময় না দিয়ে, এসব মাসয়ালার পিছনে প্রচুর সময় ব্যয় করাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

    (৩-চ) এসব মাসয়ালায় মতবিরোধের কারণে, এসব মাসয়ালা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের কারণে, এসব মাসয়ালা নিয়ে বাক-বিতন্ডার কারণে, এসব মাসয়ালা নিয়ে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির কারণে পুরো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কাজ, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর প্রস্তুতির কাজ যদি পিছিয়ে যেতে থাকে, পিছিয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাহলে এই ব্যাপারে আমাদের সকলের করণীয় কি হবে বলে আপনি মনে করেন?

    ————————–

    নোটঃ কোন সহৃদয় পাঠক যদি এই প্রশ্নের একটি প্রিন্ট কপি সম্মানিত শাইখের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে সেটা অনেকের জন্য উপকারী হবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে অনেক প্রতিদান পাবেন ইনশাআল্লাহ।

    doc: http://www.sendspace.com/file/ngj28d
    pdf: http://www.sendspace.com/file/101i5u

  4. hasan

    প্রশ্নঃ১ – আমাদের এলাকায় জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের কিছু ভাই আছেন। তারা মনে করেন তারাও ইসলামী রাস্ট্র্ প্রতিষ্টার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যতদূর আমি জানি তারা সঠিকপথে কাজ করছেন না। তাদেরকে আমি কি বলে দাওয়াহ দিবো?
    Quote
    Posted on November 11, 2012

    উত্তরঃ

    ওয়ালাইকুম আস্‌সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।

    ইন্নাল হামদা লিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।

    এই সাইটের ব্যাপারে ভালো মন্তব্য করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যার নিয়ামতে সমস্ত ভাল কাজ সংঘটিত হয়ে থাকে। দোয়া করবেন যেন আল্লাহর দিকে আহবানের ক্ষেত্রে এই সাইট যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে।

    জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ব্যাপারে কিছু বলার আগে আমরা একটি কথা পরিষ্কার করে নিতে চাই। তা হলোঃ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভংগী।

    প্রথমতঃ মানবরচিত বিভিন্ন মতবাদের ধ্বজাধারী দলসমূহ যেমনঃ আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি ইত্যাদি যারা আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছে এবং এটাই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এরা নিকৃষ্ট শিরক ও কুফরে লিপ্ত। এরা কুফরের দল। এদের নেতৃবৃন্দ হচ্ছে তাগুত।

    দ্বিতীয়তঃ ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহ যারা ইসলামী রাস্ট্র / খিলাফত প্রতিষ্টা করতে চায়। এইসব দলসমূহের মূল লক্ষ্য হলোঃ দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করা কিন্তু তারা কিছু কিছু ভুল-ভ্রান্তিতে লিপ্ত। এমনকি তাদের কোন কোন ভুল শিরক-কুফর পর্যন্ত পৌঁছেছে। আল্লাহ যেন তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন।

    জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আমাদের কথা হলোঃ আমরা তাদের সম্বন্ধে এটা বলি না যে, তারা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করছেন কিংবা তারা দ্বীনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার একটা উসিলা হিসেবে ব্যবহার করছেন। বরং আমরা মনে করি, তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য, বাংলাদেশকে ইসলামী রাস্ট্রে পরিবর্তন করার নিয়্যতে কাজ করছেন। পাশাপাশি আমরা তাদের যেসব ভালো কাজ আছে সেগুলিও স্বীকার করি। যেমনঃ তাদের সহচর্যে থেকে অনেকে আল-কোরআন ও হাদিসের বাংলা অনুবাদ পড়ছেন। অনেকে নামাজ, রোযা করছেন ইত্যাদি।

    কিন্তু সত্যকে সত্য হিসেবে আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরতে আমরা বাধ্য, তা না হলে ইলম গোপন করার অপরাধে আমরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে অপরাধী হয়ে যাবো। এছাড়াও তাদের প্রতি সত্যিকার কল্যাণকামিতা হলো তারা যেসব ক্ষেত্রে আল-কোরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী আচরণ করছেন, সেসব ক্ষেত্রে তাদের ভুলগুলি ধরিয়ে দেয়া। আর এটাই আয়না হিসেবে এক মুসলমান আরেক মুসলমানের জন্য করার কথা। তাছাড়া যেসব কোরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী আচরণ তারা প্রকাশ্যে করছেন, সেসব আচরণ প্রকাশ্যে তাদেরকে ধরিয়ে দেয়াই ইসলামের দাবী। যেভাবে ভুল নামাজ আদায়কারীকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেনঃ

    ارجع فصل فإنك لم تصل

    “ফিরে যাও, তারপর (আবার) নামাজ পড়ো, কারণ তুমি নামাজ পড়ো নি”। (সুনান আবু দাউদ, শুয়াবুল ঈমান, মুসনাদে আহমাদ)

    এখানে নামাজের বিরোধিতা উদ্দেশ্য নয় বরং নামাজকে যাতে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেটাই ছিলো উদ্দেশ্য। অনুরুপভাবে, আমাদের উদ্দেশ্য দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা নয়, বরং যাতে সঠিক পথে দ্বীনকে বিজয়ী করার চেষ্টা করা হয়, সেই দিকে মনযোগ আকর্ষণ করা।

    আমরা আল্লাহকে এই ব্যাপারে সাক্ষী রেখে বলছি যে, তাদের ইসলাহ ও কল্যাণ ছাড়া আমরা আর কিছু চাই না, আমরা চাই তারা যেন পরিপূর্ণ কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে দ্বীনকে বিজয়ী করার কাজ করেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর পছন্দনীয় পথে এবং ইসলামী শারীয়াতের গন্ডির ভিতরে থেকে দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার কাজ করার তৌফিক দান করুন।

    তাদের যে সব কাজ আমাদের কাছে আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী মনে হয়েছে, তার মাত্র তিনটি আমরা নীচে তুলে ধরছিঃ

    ক) প্রথমত: জামায়াত ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পশ্চিমাদের থেকে ধার করা কুফরী গণতন্ত্রকে দ্বীন ক্বায়েমের পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে গনতন্ত্রের মাধ্যমে এম.পি বা সংসদ সদস্যদের আল-কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়নের অধিকার দেয়া হয় যা সুষ্পষ্ট শিরক এবং কুফর। কারণ আল্লাহতায়ালাই একমাত্র আইন-বিধানদাতা। ভাল নিয়্যতে কোন কুফরী পথ অবলম্বন করলে তা জায়েয হয়ে যায় না বা এর গুনাহ থেকেও অব্যাহতি পাওয়া যায় না।

    তারা এদেশের কুফর-শিরকের মিলনস্থান জাতীয় সংসদের সদস্যপদ গ্রহণ করে আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়নে শরীক থেকেছেন যা একটি বড় কুফরী যা একজনকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এই ‘শিরকের আখড়া’ – সংসদ ভবনে সদস্যপদ নেয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক কাজে বড় শিরক ও বড় কুফর রয়েছেঃ

    যেমনঃ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবার সময় এই দেশের কুফরী সংবিধানকে সম্মান ও মান্য করার শপথ নিতে হয়।

    THIRD SCHEDULE; [Article 148]; OATHS AND AFFIRMATIONS

    “I, ……………………….., having been elected a member of Parliament do solemnly swear (or affirm) that I will faithfully discharge the duties upon which I am about to enter according to law: That I will bear true faith and allegiance to Bangladesh: And that I will not allow my personal interest to influence the discharge of my duties as a member of Parliament.

    http://www.pmo.gov.bd/pmolib/constitution/schedule3.htm

    অর্থঃ “আমি, ………, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শপথ করছি যে, আমার উপর আইনের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্বসমূহ বিশ্বস্থতার সাথে পালন করিবো, আমি বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকার বিশ্বাস ও অনুগত্য পোষণ করিবো, আমি আমার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সংসদ সদস্য হিসেবে আমার উপর অর্পিত কর্তব্যকে প্রভাবিত করবো না”।

    এই শপথে দেখা যাচ্ছে যে, এদেশে প্রচলিত ব্রিটিশ-কুফরী আইন অনুযায়ী সকল দায়িত্ব পালন করার শপথ নেয়া হচ্ছে। আর সেই দায়িত্বের মধ্যে আছেঃ সংসদে বসে সবাই মিলে আইন রচনা করা। আর এই কুফরী সংবিধান অনুযায়ী সেটা যে কোন আইন হতে পারে, আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধীও হতে পারে। বরং এই কুফরী সংবিধানের ৭(২) ধারায় বলা আছেঃ

    “জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।”

    অর্থাৎ এই সংবিধান অনুযায়ী আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেয়া আইনও বাতিল হয়ে যাবে, যদি তা এই সংবিধান বিরোধী হয়। এর চেয়ে বড় কুফরী-শিরকী কথা আর কি হতে পারে!!! আর এটা সুস্পষ্ট যে, কেউ যদি কোন কুফরী আইনকে সম্মান করার ও মান্য করার শপথ নেয়, সেটাও একটা কুফরী কাজ।

    এছাড়াও এই কুফরী সংসদে যে সব আইন প্রণয়ণ হয়, সে সবে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের এমপিরা শরীক থাকেন না বরং বিরোধিতা করেন বলে দাবী করলেও বাস্তবে তারা একটি কুফর সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ “সংসদ” এর অংশ হয়ে পুরো সিস্টেমকে সমর্থন করছেন। কারণ একটি দেশের সরকারের মূলত তিনটি অংশঃ সংসদ (Legislative) , প্রশাসন (Executive) ও বিচার বিভাগ (Judiciary)। তারা এই সংসদের সদস্য হয়ে পূর্ব থেকে চলে আসা কুফরী-শিরকী আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সাহায্য করছেন। এই সেই সংসদ যারা আগের সংসদ সমূহের মাধ্যমে চলে আসা শিরক ও কুফরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে। আর এই সংসদের সদস্য হওয়া মানে আগের রচিত সমস্ত শিরক-কুফরী আইনের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়া। কারণ যদি এই সংসদ না থাকে, তাহলে দেশে তাদের কথা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক শূন্যতা’ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ তাদের এই শিরক-কুফরী আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষার করার জন্য এই সংসদও জরুরী। আর অন্যান্য কুফরী দলের সাথে যোগ দিয়ে সেই জরুরী কাজটাই আঞ্জাম দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী দলের এমপিবৃন্দ। আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করুন।

    এছাড়াও তারা বিভিন্ন পার্লামেন্টারী কমিটির সদস্য হয়েছেন, যেগুলো পরিচালিত হয় সেই কুফরী ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী। একজন ঈমানদার, আখিরাতে বিশ্বাসী মুসলমান যা কখনো মেনে নিতে পারে না।

    খ) জামায়াত ইসলামী এর নেতৃবৃন্দ মুরতাদ সরকারের দুইটি মন্ত্রণালয় মানব-রচিত কুফরী আইন অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন, যা একটি বড় কুফর – যা একজনকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আর এই ব্যাপারে আয়াত তারা নিজেরা তাদের কর্মী, সাথী, রোকনদেরকে মুখস্থ করিয়ে থাকেন। আল্লাহ বলেছেনঃ

    إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُواْ لِلَّذِينَ هَادُواْ وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُواْ مِن كِتَابِ اللّهِ وَكَانُواْ عَلَيْهِ شُهَدَاء فَلاَ تَخْشَوُاْ النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلاَ تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ

    আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের। (সূরা আল মায়েদা, আয়াতঃ ৪৪)

    আর জামায়াতে ইসলামীর এই নেতৃবৃন্দ সমাজ-কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় কিংবা কৃষি মন্ত্রণালয় তো ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী পরিচালনা করেন নি। বরং তারা তা পরিচালনা করেছেন মানব-রচিত কুফরী-ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী।

    শিল্প মন্ত্রনণালয়ের অধীন শিল্প ব্যাংক তখনো সুদের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে, অর্থাৎ এই মন্ত্রী আল্লাহর সাথে যুদ্ধে এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হয়েছে কুফরী আইনে, সেখানে বিভিন্ন এনজিওকে শিরক-কুফর-ফাহেশা ছড়িয়ে দেয়ার অবকাশ দেয়া হয়েছে, লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সেখানে শত শত এনজিওকে সুদ ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি সহ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। আর এসব হয়েছে সমাজ-কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে, তার নিয়ন্ত্রণে।

    এসবই পরিস্কার কুফর। কারণ এটাই হচ্ছে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোন বিরোধী আইনে বিচার-ফায়সালার বাস্তব দৃষ্টান্ত। হাফিজ ইবনে কাসীর (রঃ) তাঁর তাফসীরে সূরা আল মায়িদাহ এর ৫০ নম্বর আয়াতের তাফসীতে বলেছেনঃ

    “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সেই সব লোকদের ইনকার করেছেন যারা সেই শরীআহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়; যা মানুষের জন্য উপকারী; যা মন্দকে নিষেধ করে। আল্লাহ সেই সব লোকদের প্রত্যাখ্যান করেছেন যারা নিজের প্রবৃত্তির অনুসরন করে যারা কুফরের আইনকে গ্রহণ করে যেমন তাতারদের আইন যা তাদের রাজা চেংগিস খানের অধীনে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ঐসব আইনগুলো ছিল ইহুদী, খ্রীষ্টান এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুযায়ী রাজাদের তৈরি করা আইনের মিশ্রন। আমরা কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আইনের পরিবর্তে ঐসব আইনগুলোকে প্রাধান্য দিব? যে এই কাজটি করে সে কাফের এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব!” – তাফসীর ইবনে কাসীর।

    আল্লাহ জামায়তে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দল যারা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাদেরকে যেন হেদায়েত দান করেন।

    গ) জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের অগণিত কর্মী বিগত নির্বাচনসমূহে জোটবদ্ধ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে অধিকাংশ আসনে বিএনপির জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করেছেন, যা একটি বড় কুফরী যা একজনকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

    এটা জানা কথা যে বিএনপি / আওয়ামীলীগের আদর্শ হচ্ছে কুফরী আদর্শ – যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এর বিরোধিতার উপর দাঁড়িয়ে আছে। যেমনঃ বিএনপি এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে তাদের দলীয় সংবিধানে বলা আছেঃ

    “(c) To acquire pro-people economic development and national progress based on social justice through politics of production, free market economy and people’s democracy.”

    অর্থঃ “সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্ত বাজার অর্থনীতি ও জন-গণতন্ত্রের মাধ্যমে জন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক উন্নতি ও জাতীয় অগ্রগতি অর্জন”।

    সুত্রঃ bangladeshnationalistparty-bnp.org

    অর্থাৎ, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় উন্নতি সাধন করতে চায় “মুক্ত বাজার অর্থনীতি ও জন-গণতন্ত্রের”মাধ্যমে, ইসলামী অর্থনীতি কিংবা ইসলামী শরীয়াহ এর প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। আর এটা হচ্ছে সুষ্পষ্ট কুফরী একটি আদর্শ। এখন কেউ যদি সেই বিএনপিকে ভোট প্রদান করার জন্য আহবান করে, সে পরিণামে কুফরের দিকে আহবান করে।

    যদিও জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা মুখে মুখে ‘ইসলামী গণতন্ত্র’ নামক এক আজব বস্তুর কথা বলেন কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমা আবিষ্কৃত কুফর-শিরক মিশ্রিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে দ্বীনকে বিজয়ী করার দিবা-স্বপ্ন দেখছেন এবং বিএনপি এর জন্য বাংলাদেশের অধিকাংশ আসনে ভোট চেয়েছেন। এটাই কি তাদের তথাকথিত ‘ইসলামী গণতন্ত্র’? এটাই কি তাদের তথাকথিত ‘হালাল গণতন্ত্র’? এসবের পরও কিভাবে বিবেক সম্পন্ন একজন মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইতে পারেন?

    আর এটা জানা কথা যে, নিয়্যত ভালো থাকলেও ইসলামে কোন হারাম কাজ করার অনুমতি নাই। যেমনঃ কেউ চুরি করে সেই টাকা গরীব ও অভাবীদেরকে দান করতে চাইলে সে গুনাহগার হবে। আর কুফরী আইন অনুযায়ী মন্ত্রনালয় পরিচালনা কিংবা কুফরী কোন দলের জন্য মানুষের কাছে ভোট চাওয়াতো বলাই বাহুল্য। এসব কাজ কখনো অযুহাত হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

    আবার এসব কাজকে ‘হিকমাহ’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা আরো জঘন্য। কারণ সকল নবী-রাসুল (আঃ) হিকমাহ অবলম্বন করেছেন। আর তাফসীর গ্রথসমূহে ‘হিকমাহ’ শব্দের অর্থ করা হয়েছে ‘সুন্নাহ’। জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের এসব আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ তথা শিরক-কুফরকে ‘হিকমাহ’ বলার অর্থ হচ্ছে সকল নবী-রাসুল (আঃ) বিভিন্ন সময় শিরক-কুফরীতে লিপ্ত হয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ।

    তবে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। তাদের মাঝে এসব শিরক-কুফর থাকলেও আমরা তাদের অজ্ঞতা ও তাওয়ীলের (ভুল ব্যাখ্যা) কারণে তাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে কাফির মনে করিনা। আমাদের উপরুক্ত আলোচনার মানে এটা নয় যে, পুরো জামায়াতে ইসলামীকে আমরা তাকফির করছি।

    আপাতত জামায়াতে ইসলামীর এই ভুলগুলি তুলে ধরলে আশা করি আপনার এলাকায় উল্লেখিত ভাইরা সত্য বুঝতে পারবেন। এই ভাইদেরকে এটা বুঝানো দরকার যে, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত কোন কিছু কবুল করেন না। আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রচেষ্টা একটা ভালো কাজ, বরং তা ফরজ। যেহেতু এটা একটা ইবাদত, তাই সেই ইবাদাতের পদ্ধতি স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। এই দ্বীন প্রতিষ্টার নির্দেশ দানকারী এর পদ্ধতির ভিখারী নন, যে তিনি আব্রাহাম লিংকন কিংবা কোন কাফিরের কাছে এর পদ্ধতি ভিক্ষা চাইবেন।

    কিন্তু এই দ্বীনকে বিজয়ী করতে গিয়ে কোন হারাম কিংবা শিরক-কুফরে জড়িত হবার কোন অবকাশ নেই। যে এরকম করবে সে শুধু পরিণামে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আর আল্লাহ শুধু ঈমানদারদের জন্য বিজয়ের ওয়াদা করেছেন যারা আমলে সালেহ করবে।

    وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ

    তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। (সূরা নূর, আয়াতঃ ৫৫)

    কিন্তু যারা শিরক-কুফরীতে লিপ্ত হবে, তারা তো আমলে সালেহ করছে না বরং তারা আজাবের সম্মুখীন হবে। তাই আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার চেষ্টা করতে হবে জিহাদ ও ক্বিতালের মাধ্যমে যা আমরা সংক্ষেপে ‘আমাদের দাওয়াহ’ পাতায় উল্লেখ করেছি। সেখানে আমরা দেখিয়েছি যে, এ ব্যাপারে আলেমদের ইজমা আছে যে, কোন এলাকার শাসকের মাঝে প্রকাশ্য কুফরী দেখা দিলে তাকে অপসারণ করা ফরজ। আর যদি অপসারণ করার সামর্থ না থাকে, তবে সেই সামর্থ অর্জন করা ফরজ। আর সেটা সম্ভব না হলে হিজরত করে সেই এলাকা ত্যাগ করা ফরজ।

    আল্লাহ আমাদেরকে সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন। ওমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ। সত্য পৌঁছে দেয়া ছাড়া আমাদের কোন দায়িত্ব নেই।

    ————————–

    উত্তর প্রদানেঃ

    – শাইখুল হাদিস আবু ইমরান।

    – মুফতী আইনান।

    – মাওলানা আবু আনিকা।

  5. Guraba

    আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতার কাছে আহবান

    নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহির কারীম। আম্মা বায়াদঃ

    তৌহিদী জনতার প্রতি আহবানঃ

    প্রাণপ্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা, আমরা মুসলমান জাতি। আমরা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি। আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করি না। আমরা আল্লাহর হুকুমের বাইরে অন্য কারো আনুগত্য করি না। আমরা শুধুমাত্র আল্লাহরই আইন মানি, তাঁর আইন ছাড়া হাসিনা-খালেদা-এরশাদ কিংবা এ জাতীয় কোন তাগুত-মুরতাদের বানানো মানব রচিত কুফরী আইন আমরা মানি না। তাওহীদের কালেমা – ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আমাদেরকে এসব কিছুই শিক্ষা দেয়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই আমাদের দ্বীনি, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, রাস্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে একক ও একমাত্র আদর্শ। অন্য কোন জাতীয়-বিজাতীয় ব্যক্তি হোক সেটা গান্ধী কিংবা জিন্নাহ, মুজিব কিংবা জিয়া, মাও সেতুং কিংবা প্লেটো এরা আমাদের আদর্শ হতে পারে না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ

    “নিশ্চয়ই, যারা আল্লাহর কাছে ও আখেরাতে (কল্যাণের) আশা রাখে, তাদের জন্যে আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব, আয়াতঃ ২১)

    প্রিয় তৌহিদী ভাই ও বোনেরা, রাসুল (সাঃ) কে কটুক্তিকারী কিংবা হেয়কারীর শাস্তি হচ্ছে কতল তথা হত্যা। ইমাম মালিক (রঃ) ও ইমাম আহমাদ (রঃ) এর মত হচ্ছে, এই শ্রেণীর অপরাধী তওবা করলেও তাকে হত্যা করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ. لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ

    বলো তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলের ব্যাপারে তামাশা করছিলে? কোন অযুহাত পেশ করো না, তোমরা কাফির হয়ে গেছো, ঈমান আনার পর। (সূরা তাওবা, আয়াতঃ ৬৪-৬৬)

    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে গালিদানকারী কিংবা কটুক্তিকারীদেরকে সাহাবাগণ (রাঃ) কারো অনুমতি ছাড়াই, কারো হুকুমের অপেক্ষা না করেই হত্যা করেছেন এবং রাসুল (সাঃ) পরবর্তীতে তা অনুমোদন করেছেন। এ ব্যাপারে এক দাসী হত্যার ঘটনা আবু দাঊদ (৪৩৬১), সুনানে নাসাঈতে (৪০৮১) বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ সহীহ।

    وروى أبو داود (4361) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلاً أَعْمَى كَانَتْ لَهُ أُمُّ وَلَدٍ تَشْتُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَتَقَعُ فِيهِ ، فَيَنْهَاهَا فَلَا تَنْتَهِي ، وَيَزْجُرُهَا فَلَا تَنْزَجِرُ ، فَلَمَّا كَانَتْ ذَاتَ لَيْلَةٍ جَعَلَتْ تَقَعُ فِي النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَشْتُمُهُ ، فَأَخَذَ الْمِغْوَلَ [سيف قصير] فَوَضَعَهُ فِي بَطْنِهَا وَاتَّكَأَ عَلَيْهَا فَقَتَلَهَا . فَلَمَّا أَصْبَحَ ذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَمَعَ النَّاسَ فَقَالَ : أَنْشُدُ اللَّهَ رَجُلًا فَعَلَ مَا فَعَلَ لِي عَلَيْهِ حَقٌّ إِلَّا قَامَ . فَقَامَ الْأَعْمَى فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَنَا صَاحِبُهَا ، كَانَتْ تَشْتُمُكَ وَتَقَعُ فِيكَ فَأَنْهَاهَا فَلَا تَنْتَهِي ، وَأَزْجُرُهَا فَلَا تَنْزَجِرُ ، وَلِي مِنْهَا ابْنَانِ مِثْلُ اللُّؤْلُؤَتَيْنِ ، وَكَانَتْ بِي رَفِيقَةً ، فَلَمَّا كَانَ الْبَارِحَةَ جَعَلَتْ تَشْتُمُكَ وَتَقَعُ فِيكَ ، فَأَخَذْتُ الْمِغْوَلَ فَوَضَعْتُهُ فِي بَطْنِهَا وَاتَّكَأْتُ عَلَيْهَا حَتَّى قَتَلْتُهَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( أَلا اشْهَدُوا أَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ)
    হাদিসটি সারাংশ নিম্নরুপঃ একজন অন্ধ ব্যক্তি (সাহাবী) যার একজন দাসী ছিল, যে ছিলো তার উম্মু ওয়ালাদ। এই মহিলা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিতো। এবং তাকে তিনি তা না করার জন্য সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না! এক রাতে সে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তিনি একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়!

    সকালে আল্লাহর রসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাঁড়াও।

    অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেঁটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত হতে বলার পরও সে বিরত হতো না! তার গর্ভ থেকে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে নিজেও আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো।

    কিন্তু গতরাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে হত্যা করলাম।” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জেনে রেখো যে ঐ মহিলার কোন রক্তমূল্য নেই।” – সুনানে আবু দাঊদ (৪৩৬১)।

    সুবহানাল্লাহ, এই রাজীব ওরফে ‘থাবা বাবা’দের রক্তের কোন মূল্য নেই। যারাই রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে তামাশা করবে, কটুক্তি করবে তাদের রক্তের কোন মূল্য নেই।

    ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) উলেখ করেছেনঃ আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে একমত যে, যে কোন মুসলমান রাসুলকে (সাঃ) হেয় করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যায়। তার শাস্তি হচ্ছে – কতল। এই ইজমা একাধিক আলেম কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ ইমাম ইসহাক ইবনে রাহাবীয়া (রঃ), ইবনে মুনজির (রঃ), কাজী ইয়াজ (রঃ), ইমাম খাত্তাবী (রঃ) এবং আরো অনেকে।” (দেখুনঃ সারিম আল মাসলুল, ২/১৩-১৬)

    এই রাজীব শ্রেণীর সকল নাস্তিক-মুর্তাদ যারা রাসুল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে কটুক্তি করবে তাদের জীবনের কোন মূল্য নেই। তাদেরকে অনায়াশে হত্যা করা যাবে। এর জন্য কারো অনুমতি লাগবে না। এর জন্য কারো কাছে ধর্ণা দিতে হবে না। এদেরকে হত্যা করা অন্যতম একটা সওয়াবের কাজ। বরং তা আমাদের ঈমানের দাবী।

    অতএব রাজীব শ্রেণীর যারাই রাসুলকে (সাঃ) নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ পূর্বে করেছে, বর্তমানে করছে এবং ভবিষ্যতে করবে, তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করে হত্যা করতে হবে। এটাই করণীয়। এটাই দ্বীন ইসলাম। কারণ তাদের রক্তের কোন মূল্য নেই। তাদের হত্যাকারীকে কিছু বলা হবে না।

    প্রিয় তৌহিদী জনতা, আমাদের এই জমীনে এসব নাস্তিক-মুর্তাদ ব্লগার চক্র বহুদিন যাবত ইহুদী-খ্রীষ্ঠানদের এক সুগভীর চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছে এসব মুরতাদ সরকার। এসব সম্ভব হয়েছে কারণঃ

    আমাদের এই জমীনে বর্তমানে ইসলামী শরীয়াত কায়েম ও বিজয়ী নেই। বর্তমান কাফের-মুরতাদ সরকারসমূহ (বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ ইত্যাদি কুফরপন্থী দলের দ্বারা গঠিত গণতান্ত্রিক সরকার) ইসলামী শরীয়াত বাদ দিয়ে মানব-রচিত কুফরী-শিরকী আইনের প্রবর্তন ও প্রচলন করেছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُواْ إِلاَّ لِيَعْبُدُواْ إِلَـهًا وَاحِدًا لاَّ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
    “আল্লাহর পাশাপাশি তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়মের পুত্রকে মসীহকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একক ইলাহ এর ইবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তারা তাঁর সাথে যে সকল শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।” (সূরা তওবা, আয়াতঃ ৩১)

    এই আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে স্বয়ং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে যেখানে তিনি আদী ইবনে হাতিম (রাঃ) কে বলেছিলেনঃ
    أليس يحرِّمون ما أحلَّ الله فتحرِّمونه، ويحلُّون ما حرَّم الله فتحلُّونه؟ قال: قلت: بلى! قال: فتلك عبادتهم!
    ‘“আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা কি তারা হারাম করে না? এবং তারা (অনুসারীরা) তা হারাম করে নেয় না? আবার আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা কি তারা হালাল করে না? এবং তারা (অনুসারীরা) তা হালাল করে নেয় না? তিনি বললেন, জ্বি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এটাই হলো তাদের ইবাদত করা’৷” (তাফসীর তাবারী, মুসনাদে আহমাদ, সুনান তিরমিযী। ইমাম ,তিরমিযী (রঃ) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)৷

    এদেশের কাফির-মুরতাদ সরকারগুলো এখানে নব্য আহবার ও রাহবানের ভূমিকা নিয়েছে। যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের উপর এই কুফরী-শিরকী আইন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ও তাদেরকে প্রতারণায় ফেলে চাপিয়ে রেখেছে। যেমনঃ

    ক) আল্লাহ মদ হারাম করেছেন আর এই মুরতাদ সরকারগুলো মদকে হালাল করে দিয়েছে, মদের লাইসেন্স দিচ্ছে।
    খ) আল্লাহ জ্বিনা হারাম করেছেন আর এই মুরতাদ সরকারগুলো পতিতাবৃত্তির জন্য লাইসেন্স দিচ্ছে।
    গ) আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন, সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন আর এই মুরতাদ সরকারগুলো সুদের ভিত্তিতে পুরো অর্থনীতি পরিচালনা করছে। সুদের ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালনার লাইসেন্স দিচ্ছে।

    অথচ আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
    “তারা কি জাহেলিয়াতের বিচার-ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?” (সূরা মায়িদাহ, আয়াতঃ ৫০)
    অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, এরা এসব জাহেলী-বাতিল আইনকে বলছে যুগ উপযোগী আইন- আর আহকামুল হাকেমীন আল্লাহর দেয়া আইন-বিধানকে বলছে মধ্যযুগীয় শাসন। এটা তাদের আরেকটি সুস্পষ্ট কুফরী।

    এছাড়াও এদেশের মুরতাদ সরকারগুলো যুগ যুগ ধরে সারা বিশ্বে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধরত ইহুদী-খ্রীষ্ঠান-হিন্দু দেশগুলোর (যেমনঃ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ইত্যাদি) পা-চাটা গোলামের ভূমিকা পালন করছে, এদেরকে বন্ধু-সাহায্যকারী-পরামর্শক হিসেবে গ্রহণ করেছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
    “হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে আউলিয়া (বন্ধু, অভিভাবক, রক্ষক) হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের আউলিয়া। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে আউলিয়া হিসেবে নিবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (সূরা মায়িদাহ, আয়াতঃ ৫১)

    এই মুরতাদ সরকারগুলো এই দেশে হিন্দু-খ্রীষ্টান-ইহুদীদের কুফরী-শিরকী আদর্শ এবং কৃষ্টি-কালচার প্রচার-প্রসার করছে এবং ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে তাদের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এদের শিক্ষানীতি, এদের নারীনীতি আমাদের এই মুসলমান দেশে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এদেশের আলেম-সমাজ অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সেসব আন্দোলনের কারণে অনেক আলেম, অনেক মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দ শহীদ হয়েছেন, জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন।

    এই নাস্তিক-মুর্তাদ সরকারসমূহ ইহুদী-খ্রীষ্টানদের বন্ধু ও আউলিয়া হয়ে ইতিমধ্যে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে। এরই পরিক্রমায় এদেশে যত নাস্তিক-মুর্তাদ ব্লগার চক্রকে এই ইহুদী-নাসারাদের গোলাম সরকার নিরাপত্তা দিচ্ছে, সমর্থন দিচ্ছে। তরুন সমাজকে বিভ্রান্ত করে ওদের মতো নাস্তিক-মুর্তাদ হিসেবে তৈরী করার সুযোগ দিচ্ছে। এদেশে মুসলমানদের গায়ে রক্ত থাকতে এই জঘন্য পরিকল্পণা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।

    এই নাস্তিক-মুর্তাদ রাজিব ওরফে ‘থাবা বাবা’ কে এই ডিজিটাল-মুর্তাদ সরকার ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে !!!

    হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলমান সবাইকে নিয়ে এই ডিজিটাল-মুর্তাদ সরকার এই নাস্তিকের জানাজার নামাজ আদায় করে, দ্বীন ইসলামকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে !!

    এই নাস্তিক-মুর্তাদ রাজিব ওরফে ‘থাবা বাবা’ যা করতো ব্লগে, সেটা বাস্তবে রুপায়ন করে দেখিয়েছে এই ডিজিটাল-মুর্তাদ সরকার !!

    আল্লাহ এদের উপর লানত বর্ষণ করুন।

    প্রিয় তৌহিদী জনতা, এটা আমাদের সবার কাছে সুপষ্ট যে, এসব মানবরচিত কুফরী মতবাদপন্থী দল যেমনঃ আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ইত্যাদিকে ভোট দেয়া, সমর্থন করা, তাদের পক্ষে মিছিল-মিটিং করা, তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা, তাদের পক্ষে কথা বলা, তাদের পক্ষে কলম ধরা ইত্যাদি সবই হচ্ছে শিরক-কুফর-হারাম ও বিদয়াত। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ
    “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি। (কিন্তু) তারা বিরোধীয় বিষয়কে তাগুতের দিকে নিয়ে যেতে চায়।” (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৬০)
    ঈমানের দাবী করার পর কুফরী আইন-ব্যবস্থায় শুধুমাত্র বিচার চাওয়ার ইচ্ছা থাকায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাদের ঈমানের দাবীকে নাকচ করেছেন। তাহলে এসব কুফরী-শিরকী আইন-বিধান-মতবাদের পক্ষে যারা কাজ করে, তাদের ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কি হতে পারে? ভালোভাবে চিন্তা করুন।

    সলফে সালেহীনগণ, মুজতাহিদ ইমামগণ ও পরবর্তী যুগের ইমামগণের মধ্যে এবং আমাদের মাজহাবে এই ব্যাপারে ইজমা রয়েছে যে, কোন মুসলিম এলাকার শাসকের মধ্যে এই রকম সুষ্পষ্ট কুফরী দেখা গেলে তার সাথে সশস্ত্র জিহাদ-ক্বিতাল করে, তাকে হটিয়ে ইসলামী শরীয়াত জারি করা হচ্ছে ঐ এলাকার সামর্থবানদের উপর ফরজে আইন। আর যদি সামর্থ না থাকে তবে শক্তি-সামর্থ অর্জন করা হচ্ছে ফরজে আইন। আর সেই শাসকের সমর্থনে যদি কোন বাহিনী থাকে তবে ঐ মুরতাদ বাহিনীসহ ঐ শাসককে হটানো হচ্ছে ফরজে আইন।

    এর দলীল হলো উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) বর্ণিত হাদীস যেখানে তিনি বলেছেনঃ
    دَعَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَايَعْنَاهُ فَكَانَ فِيمَا أَخَذَ عَلَيْنَا أَنْ بَايَعَنَا عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي مَنْشَطِنَا وَمَكْرَهِنَا وَعُسْرِنَا وَيُسْرِنَا وَأَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَأَنْ لَا نُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ قَالَ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنْ اللَّهِ فِيهِ بُرْهَانٌ
    অর্থাৎ, “রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমরা তাকে বাইয়াত দিলাম। তিনি তখন আমাদের থেকে যে বায়াত নেন, তার মধ্যে ছিল – ‘আমরা শুনবো ও মানবো, আমাদের অনুরাগে ও বিরাগে, আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিলেও যোগ্য ব্যক্তির সাথে আমরা নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল করবো না।’ তিনি বলেন, যতক্ষণ না তোমরা তার মধ্যে প্রকাশ্য কুফরী দেখতে পাবে এবং তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলীল থাকবে।’” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

    এ ব্যাপারে ইজমা উল্লেখ করে সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রঃ) বলেছেনঃ
    وقال الداودي الذي عليه العلماء في أمراء الجور أنه إن قدر على خلعه بغير فتنة ولا ظلم وجب وإلا فالواجب الصبر وعن بعضهم لا يجوز عقد الولاية لفاسق ابتداء فإن أحدث جورا بعد أن كان عدلا اختلفوا في جواز الخروج عليه والصحيح المنع إلا أن يكفر فيجب الخروج عليه
    দাউদী (রঃ) বলেছেন, আলেমরা এ ব্যাপারে একমত যে, শাসক জালেম হলে যদি সামর্থ থাকে ফিতনা ও জুলুম ছাড়া তাকে অপসারণ করার তাহলে তা ওয়াজিব। তা না হলে ধৈর্য্য ধরা ওয়াজিব। অন্যরা বলেছেন, ফাসিক ও বিদয়াতীর কাছে নেতৃত্ব দেয়া যাবে না। যদি সে প্রথমে ন্যায়পরায়ণ থাকে ও পরে বিদয়াত ও জুলুম করে তবে তার অপসারণ ও বিরুদ্ধাচারণের ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে। সঠিক মত হচ্ছে, তা না করা যতক্ষণ না সে কুফরী করে। তখন তাকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধাচারণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। (উমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহুল বুখারী, কিতাবুল ফিতান, ৩০/১১০)

    এছাড়াও এই মুরতাদ সরকারগুলোর নিরাপত্তা দানকারী বাহিনীসমূহ যেমনঃ র্যা ব, আর্মি, বিডিআর, পুলিশ ইত্যাদি হচ্ছে কুফরের বাহিনী এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করাও আমাদের উপর ফরজ। এরাই মুর্তাদ সরকারের নির্দেশক্রমেঃ

    ক) আন্দোলনরত আলেম-ওলামাকে হয়রানি করছে।
    খ) আলেম-ওলামাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন সভা-মসমাবেশ কিংবা মত বিনিময় পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না।
    গ) এরাই এই তৌহিদী জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

    দেশ রক্ষার অযুহাত দেখিয়ে মুরতাদ সরকারগুলো এই বাহিনীর অনেককে ধোঁকায় ফেলে আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত করে রেখেছে। আর অন্যান্যরা দুনিয়ার সামান্য বেতনের লোভে তাদের আখিরাত বিক্রয় করে দিয়েছে। এদের ব্যাপারে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    الَّذِينَ آمَنُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
    “যারা ঈমানদার তারা যে, লড়াই করে আল্লাহর পথে। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে সুতরাং তোমরা লড়াই করতে থাকো শয়তানের আউলিয়াদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।” (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৭৬)

    যারাই দ্বীন ইসলাম ক্বায়েমের চেষ্টা করে, এই বাহিনীগুলো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এদেশের মুরতাদ সরকারগুলো এসব মুরতাদ নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমেই তাদের কুফরী-শিরকী আইন জারি রেখেছে। মুরতাদ নিরাপত্তা বাহিনীগুলো না থাকলে এসব কাফির-মুরতাদ সরকার এদেশের মুসলমানদের উপর তাদের এই শিরকী আইন একদিনও কায়েম রাখতে পারতো না।

    তাই এই জমীনে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর ব্যাপারে কটুক্তি ও তামাশা বন্ধ করতে হলে, এই জমীনে দ্বীন ইসলাম ও শরীয়াতকে বিজয়ী করার জন্য আমাদেরকে সর্বাত্বক জিহাদ ও কিতাল করতে হবে। দল-মত, মাজহাব-মাসলাক নির্বিশেষে, ফিক্বহী-ফুরুঈ ইখতিলাফ ছেড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সবাই দ্বীন কায়েমের এই জিহাদে শরীক হবো। আমরা আনসার হবো, মুজাহিদ হবো, নিজের জান ও মাল আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী দিবো ইনশাআল্লাহ।

    আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়াত এই জমীনে বিজয়ী না করে, আমরা ঘরে ফিরে যাবো না ইনশাআল্লাহ।
    আমাদের সবার কন্ঠে ঘোষিত হোকঃ হয়তো শরীয়াত, নয়তো শাহাদাত।

    আমরা কি ঐ উত্তম ব্যবসায় সামিল হবো না, যে ব্যাপারে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ – تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ .
    “হে ঈমানদারগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা জানো।” (সূরা ছফ, আয়াতঃ ১০-১১)

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক্বকে হক্ব হিসেবে চেনার এবং এর অনুসরন করার তৌফিক দিন, বাতিলকে বাতিল হিসেবে চেনার এবং এ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

    আমরা সবাইকে এই আহবান পৌঁছে দিবো ইনশাআল্লাহ।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামের প্রতি আহবান

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আপনারা সম্মানিত, আল্লাহ আপনাদেরকে সম্মানিত করেছেন। আপনার আম্বিয়া (আঃ) গণের ওয়ারিস। আপনারা আমাদের উপর দায়িত্বশীল।

    বর্তমানে আমাদের সামনে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কিংবা তাঁর কোন সাহাবা (রাঃ) উপস্থিত নেই। তাই আমরা যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য আপনাদের পানে চেয়ে থাকি। নিশ্চয়ই আমাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে।

    সম্মানিত ওলামাগণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে কি এই নাস্তিক-মুর্তাদ ব্লগারদেরকে একটা একটা করে ধরে কতল করা আমাদের দায়িত্ব নয়?
    সম্মানিত ওলামাগণ, এই নাস্তিক ব্লগার চক্রকে সম্মান দেয়া, রক্ষা করা, তাদের পক্ষ নেয়া ও কুফরী আইন দিয়ে এদেশ পরিচালনা করা যা একটি সুপষ্ট কুফরী বা কুফরুন বাওয়াহ, এসব অগণিত কারণে কি এই কাফির-মুর্তাদ সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালে নেমে যাওয়া আমাদের উপর ফরজ নয়? বিশেষত যখন সলফে সালেহীনদের এই ব্যাপারে ইজমা আছে। যখন আমাদের মাজহাবের বড় বড় ওলামায়ে কেরাম এই ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, যদি জিহাদ –কিতাল করা এখন আমাদের উপর ফরজ না হয়, তাহলে এই পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কি – দয়া করে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, প্রিয় রাসুল (সাঃ) এর অপমান আমাদের আর সহ্য হচ্ছে না। এদেশের পনেরো কোটি মুসলমানদের মাঝে ইনশাআল্লাহ মর্দে-মুজাহিদ কিংবা বীরদের অভাব নেই। আল্লাহ চাইলে আপনারা তাদেরকে সাথে পাবেন। আপনারা আল্লাহর উপর ভরসা করে শুধুমাত্র তার জন্য সত্য উচ্চারণ করুন। আজ যে তৌহিদী জনতা জেগেছে, তাদেরকে সর্বদা আপনাদের আশেপাশে এভাবে পাওয়া যায় না। তাদেরকে প্রাণ খুলে আপনারা হক্ব বয়ান করে দিন।

    নাস্তিক-ব্লগার চক্র আর তাদের রক্ষাকারী মুর্তাদ সরকারের এই দ্বীনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর কতদিন চলবে? আর কতদিন আমরা এসব মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্রের নিস্পেষণে বন্দী থাকবো? আর কতদিন আমাদের চোখের সামনে এই দ্বীনকে লাঞ্চিত হতে দেখবো?

    আমরা কেন সেই অন্ধ সাহাবী (রাঃ) এর মতো আমল করতে পারবো না? আমরা কেন নাস্তিক-মুর্তাদ ঐ ব্লগার চক্রকে চিহ্নিত করে তাদেরকে কতল করতে পারবো না?

    আমরা কেন আবু বকর (রাঃ) এর সময়ে মুর্তাদদের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) দের ইজমা আমল করতে পারবো না? তাঁরা তো সে সময় সকল মুর্তাদদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ ও কিতাল করেছেন। যুদ্ধরত কাফিরদের তুলনায় মুর্তাদদেরকে বেশী ক্ষতিকর মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক কিতালে নেমেছেন।

    তবে আমরা কেন ঘরে বসে থাকবো? আর শুধু এই জালেম, ইহুদী-খ্রীষ্টানদের এজেন্ট সরকারের কাছে বারংবার কাকুতি-মিনতি করতে থাকবো?

    এদেশে প্রতিনিয়ত রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে, দ্বীন ইসলামকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হচ্ছে, মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা দম্ভভরে বলে বেড়াচ্ছেঃ
    এদেশে অন্য কোন আইন চলবে না, কোরআন-সুন্নাহর আইন চলবে না !!!

    তাহলে কি এদেশে আজীবন কাফিরদের বানানো আইন চলবে? আর আমরা মুসলমান জনগণ কি বসে থাকবো? এর স্থায়ী সমাধান কি? দ্বীন ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে? আপনাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, এর আগেও তো তসলিমা নাসরিন নামক ইহুদী-খ্রীষ্টানদের এজেন্ট এক মুর্তাদ মহিলা এরকম করেছে? আগেও তো এদেশে আন্দোলন হয়েছে? তবে কি এধরনের আচরণ বার বার হতেই থাকবে? এর কি কোন স্থায়ী সমাধান নেই?
    ইসলামী শরীয়াত বাস্তবায়ন ছাড়া এক/দুইটা আইন প্রণয়ণ করে কি এটা কখনো সম্ভব?

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আপনারা এর আগেও নারী নীতি, শিক্ষা নীতি ইত্যাদি ব্যাপারে আন্দোলন করেছেন। ঐ সকল আন্দোলনের ফলাফল কি? সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আপনাদের ঐ আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত কোন পথে পরিচালিত করা হয়েছে?
    বারংবার তো এটাই করা হয়েছে যে, আপনাদের আন্দোলনের কারণে এসব মুরতাদ সরকার সাময়িকভাবে তা মেনে নেবার ভান করেছে। কিছুদিন যাবার পরই গোপনে তারা আবার তাদের আগের কার্যক্রমে ফিরে গেছে। তারা শুধু চায় কোনভাবে আলেম সমাজকে শান্ত করে মসজিদে, মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দিতে। তাহলে আবার তারা নিশ্চিন্তে কুফরের রাজত্ব করতে পারে।
    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, বর্তমানে নারীনীতি ও শিক্ষানীতির হাল কি তা কি আপনারা খবর রেখেছেন?

    মুমিনগণ একই গর্তে দুইবার পা ফেলে না। তাই আমরাও আবার একই গর্তে পা ফেলতে চাই না। এবার আমরা এর শেষ দেখে যেতে চাই। এর একটা স্থায়ী সমাধানের দিকে আমাদেরকে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ।

    হে নবীদের উত্তরাধিকারীগণ, আমাদের কি এই ইসলামী শরীয়াতের ছায়ার নীচে বাস করার অধিকার নেই? কারা আমাদের এই অধিকার কেড়ে নিয়েছে? এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে? এদেরকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

    কোন অধিকারে এদেশের রাজনীতিবিদরা কোরআনের আইনকে এদেশে বাতিল করে দিয়েছে? মুগল আমলেতো এদেশে ইসলামী শরীয়াত চালু ছিলো। ইংরেজরা এদেশ দখল করার পর এদেশে ইসলামী শরীয়াতের প্রয়োগ বন্ধ করে দেয়। তারা যাবার পর সেই দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে, খ্রীষ্টান ইংরেজদের এজেন্ট এদেশীয় নাস্তিক-মুর্তাদ ও সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা।
    শাহ আব্দুল আযিয মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) কর্তৃক তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশকে ‘দারুল হারব’ ঘোষণার পরিস্থিতি কি এদেশে এখনো বিদ্যমান নেই? ইংরেজরা চলে গেছে তো কি হয়েছে, তাদের ভাবশিষ্যরা তো ইংরেজদের থেকেও আরো মারাত্বকভাবে দ্বীন ইসলামের উপর আক্রমন করে যাচ্ছে। আর এসব মুর্তাদ সরকার এসব কার্যক্রমে সবার আগে রয়েছে।
    হে নবীদের উত্তরাধিকারীগণ, এই পরিস্থিতিতে আপনারা কিভাবে চুপ করে থাকতে পারেন? এই ব্যাপারে কি আপনাদের জবাবদিহী করতে হবে না?

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আপনারা আপনাদের নেতৃত্বের আসনে ফিরে আসুন। আপনারা এদেশের ইসলামপ্রিয়-তৌহিদী জনতাকে পরিচালিত করুন। আপনারা এদেশের রাস্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করুন। এদেশকে তথাকথিত এসব রাজনীতিবিদদের কাছে ছেড়ে দিলে কখনো এর সমাধান হবে না।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঐ কথা মনে রাখতে হবে যেখানে তিনি বলেছেনঃ
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ يَخَافُونَ لَوْمَةَ لآئِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
    হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা মায়েদা, আয়াতঃ ৫৪)

    আল্লাহ যাতে আমাদেরকে অন্য কোন সম্প্রদায় দ্বারা বদলী করে না দেন। আলেমদের ইজমা মতে আমাদের উপর দায়িত্ব হচ্ছে, সুস্পষ্ট কুফরী কাজ সম্পাদনকারী এসব সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, এদেরকে হটিয়ে ইসলামী শরীয়াত কায়েম করা। আমরা এই কাজ আঞ্জাম না দিলে, আল্লাহ আমাদেরকে বদল করে দিতে পারেন। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
    إِلَّا تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
    যদি জিহাদে বের না হও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে মর্মন্তদ আযাব দিবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না , আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা তওবা, আয়াতঃ ৩৯)
    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আপনাদেরকে মোল্লা মোহাম্মদ ওমর (দাঃ বাঃ) এর মতো এদেশের রাস্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। পুরোপুরি ইসলামী শারীয়াত কায়েম করতে হবে। এর জন্য আমাদেরকে নিজেদের জান-মাল কুরবানী দিতে হবে।
    হে আলেম সমাজ, আপনারা আমাদের নেতৃত্ব নিন। এসব নাস্তিক-মুর্তাদ ও তাদের সাহায্যকারীদের নেতৃত্ব আর চাই না। আপনারা এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করুন, আমরা আপনাদের নেতৃত্ব চাই।

    যদি আফগানিস্তানে আলেম-ওলামারা দেশ পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের আলেমরাও এদেশ পরিচালনা করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ আল্লাহ আপনাদের সাথে থাকবেন।

    সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ, আসুন আমরা শপথ নেই যেঃ

    ‘এদেশে ইসলামী শরীয়াতের বিজয়ের আগ পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না ইনশাআল্লাহ’।
    সবাই বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলুনঃ ‘হয়তো শরীয়াহ, না হয় শাহাদাহ’।

    নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার।

    হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা সত্য পৌঁছে দিয়েছি।

    হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা সত্য পৌঁছে দিয়েছি।

    হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা সত্য পৌঁছে দিয়েছি।

    নোটঃ প্রিয় তৌহিদী ভাই/বোনেরা, উপরুক্ত এই আহবানটি প্রিন্ট করে, ফটোকপি করে সবার কাছে পৌঁছে দিয়ে উভয় জাহানের অশেষ নেকী হাসিল করুন।

  6. Guraba

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইসলামবিরোধী আন্দোলন

    সৌজন্যে: https://dawahilallah.wordpress.com

    ডাউনলোড

    ডাউনলোড

    ডাউনলোড

    সৌজন্যে: বাব-উল-ইসলাম

    ডাউনলোড

    ডাউনলোড

    ডাউনলোড

    —————————–
    বিশেষ ভিডিও

    —————————–
    মিথ্যা সালাফীদের মুখোশ উন্মোচন

    Fake-salafi

    এই সাইটের একজন ভিজিটরের সৌজন্যে ভিডিওটি প্রকাশিত হলো

    3gp ফরমেটে ডাউনলোড

  7. Guraba

    এই 3GP ফরমেট ভিডিও গুলো মুসলিম উম্মার মাঝে ছড়িয়ে দিন

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ!

    দিগন্ত টিভি নিউজ রিপোর্ট (3gp ভিডিও)

    Quote:
    http://archive.org/download/O_muslim_ummah/Imp-digontoTvnews-22-02-2013.3gp

    আলেমদের প্রতি আহবান (3gp ভিডিও)

    Quote:
    http://archive.org/download/O_muslim_ummah/Alemx.3gp

    আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতার প্রতি আহবান (অডিও বার্তা- mp3)

    Quote:
    [audio src="http://archive.org/download/O_muslim_ummah/Alem_Somaj_O_Towhidi_Jonotar_Proti_Ahoban.mp3" /]

  8. ibadur rahman

    বিংশ শতাব্দীর ইসলামী আন্দোলনের বিপ্লবী কন্ঠস্বর ও আপসহীন তাওহীদবাদী উস্তাদ সাইয়েদ কুতুব (রাহ:) তাঁর “ইসলামী আন্দলনঃসংকট ও সম্ভাবনা” বইটিতে ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসকল বাধা বিপত্তি ও সংকটের সৃষ্টি হয় সেগুলোর যথাযথ কারণ এবং কোর’আন ও সুন্নাহর আলোকে সেগুলোর সমাধান তুলে ধরেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক ইসলামি আন্দোলনের কর্মীর জন্য এ বইটি অবশ্যপাঠ্য।বইটি আপনাদের ওয়েবসাইট এ যোগ করার এবং সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।জাযাকাল্লাহ।উল্লেখ্য বইটি ইন্টারনেট এ এই প্রথম আপলোড করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
    ডাউনলোড লিঙ্ক : http://www.mediafire.com/?rgal26vwor10aca

  9. রাসেল ইবনে তায়মিয়্যাহ

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ!
    শেইখ মুফতি জাসিমুদ্দিন রাহমানি সাহেব এর কাছে আমার এই প্রশ্ন টি কোন ভাই তার কাছে দিবেন ।আমরা কিছু লোক বিভান্তির মধ্যে আছি তার কারন হচ্ছে যারা নামজে বুকে হাত বাধে ও রফেইয়াদাইন করে তারা বলছে যে নাভীর নিচে হাত বাধার দলিল জয়ফ ও রফেইয়াদাইন কারা আনেক সহহী হাদিসে আছে । আর যারা নাভীর নিচে হাত বাধে তারা বলে বুকে হাত বাধার হাদিস জয়ফ ও রফেইয়াদাইন কারার যে হাদিসে রয়েছে তা জয়ফ । এখন এই সমস্যা থেকে আমরা কিভাবে বাচতে পারি ।আমরা এখণ বুকে হাত বাধবো না কি নাভীর নিচে হাত বাধবো ।রফেইয়াদাইন করবো কি করবো না দয়া করে শেইখ মুফতি মোঃ জাসিমুদ্দিন রাহমানি সাহেব আমাদের জানাবেন

  10. bakkar

    আমি এবং আমার স্ত্রি মিলান এর সময় যৌনাঙ্গ চম্বন করি তাতে করে আমার স্ত্রী খুব উপভোগ করে এটা করা কি ইসলাম এ ঠিক কিনা কুরআন এবং হাদিস আসে কি না ? যদি উত্তর দেন তবে খুব উপকার হয়.

  11. Mohammad Shamim

    ভাই আমি মিরপুর দশ এ চাকরি করি। আমি প্রতি শুক্রবার মুফতি আব্দুল হাকিম এর মসজিদেই জুমার নামাজ আদায় করি। আমি ওনার বয়ান নিয়মিত শুনছি। এবং তার অনেক বয়ান আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তো ভাই ওনার ওয়ান অনলাইনে রিডিং পড়ার কোনো সুব্যবস্থা আছে কি। যদি থেকে থাকে তাহলে আপনাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ সেই লিংকটি আমাকে পোস্ট করুন।

  12. Mohammad Shamim

    ভাই আমি মিরপুর দশ এ চাকরি করি। আমি প্রতি শুক্রবার মুফতি আব্দুল হাকিম এর মসজিদেই জুমার নামাজ আদায় করি। আমি ওনার বয়ান নিয়মিত শুনছি। এবং তার অনেক বয়ান আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তো ভাই ওনার বয়ান অনলাইনে রিডিং পড়ার কোনো সুব্যবস্থা আছে কি। যদি থেকে থাকে তাহলে আপনাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ সেই লিংকটি আমাকে পোস্ট করুন।

  13. Md. Z.

    আস-সালামু আলাইকুম।

    যেসব দ্বীনি ভাই বোনরা নিজেদের শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয় দিয়ে থাকেন অর্থাৎ; শিয়া, হানাফি, আহলে-হাদিস, তাবলীগই, সূফী ইত্যাদি নয় বরং সুন্নাহ-র উপর সিরাতুল মুস্তাকিম-এ চলার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য একটি ফ্রী international বিয়ে-শাদির ওয়েবসাইট এর ঠিকানা দিচ্ছি http://www.muslimmuslima.com/

    যদিও এখানেও ৭২ ফিরকার লোকজনই বেশি থাকার কথা আর বাংলাভাষী লোকজন কম , তবুও “just a Muslim” option এ গিয়ে আপনারা নিজেরাই তৈরি করতে পারেন প্রোফাইল। অনুরোধ ঃ প্রোফাইল এ নিজের ছবি না দেয়াটাই শারিয়াত সম্মত। আপনাদের মাঝেই গড়ে উঠুক মুমিনদের আত্মীয়তা, এই দুয়া করি।

    মা আস-সালাম

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s